Article By – সুনন্দা সেন

আজ (৩ এপ্রিল,২০২৫) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা সমস্ত পণ্যের উপর ২৬% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় শিল্প ব্যাহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শিফটিং ট্রেডের কারণে কিছু খাত অপ্রত্যাশিতভাবে সুবিধা পেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ, টেলিকম সরঞ্জাম, রত্নপাথর, পেট্রোলিয়াম পণ্য, সোনার গহনা এবং তৈরি সুতির পোশাক। আমদানির দিকে, মূল পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, কয়লা, পেট্রোলিয়াম পণ্য, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং এরোস্পেস কম্পোনেন্ট।
ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্ট এবং জ্বালানি রপ্তানিকে নতুন শুল্ক কাঠামো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যার সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এছাড়া অটো পার্টস এবং অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানি নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। যদিও পূর্বে ঘোষিত ২৫% শুল্ক এখনও প্রযোজ্য। অন্যদিকে ২৬% শুল্কের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের ইলেকট্রনিক্স এবং রত্ন (জেম) ও অলংকার (জুয়েলারি) খাত। আমেরিকা ভারত থেকে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইলেকট্রনিক্স এবং ৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের রত্ন ও অলংকার আমদানি করে। এই বৃদ্ধির আগে, ভারতীয় ইলেকট্রনিক পণ্যের উপর ওয়াশিংটনের শুল্ক ছিল গড়ে মাত্র ০.৪১%। আর গহনা এবং রত্ন পণ্যের উপর প্রায় ২.১২% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
তামা, ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর, কাঠ, সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুগুলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় না এমন কিছু এনার্জি প্রোডাক্ট এবং খনিজ সম্পদও বাদ দেওয়া হবে মার্কিন আরোপিত ২৬% শুল্ক থেকে। অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। ভিয়েতনাম তার টেক্সটাইল রপ্তানির উপর ৪৬% উচ্চ শুল্কের সম্মুখীন। যেখানে বাংলাদেশ এবং চীন যথাক্রমে ৩৭% এবং ৩৪% শুল্কের সম্মুখীন। ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)- এ টেক্সটাইলের অবদান মাত্র ২%। যেখানে বাংলাদেশের এবং ভিয়েতনামের নিজ নিজ দেশে GDP- এ অবদান যথাক্রমে ১১% এবং ১৫%। তাই ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর এর প্রভাব মৃদু হতে পারে।




