Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছে যে সব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে। তাদের উপর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য মহলে আলোড়ণ ফেলেছে এবং ভারতও এর বাইরে নয়। এই সিদ্ধান্ত মূলত ইরানকে অর্থনৈতিক আরও বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন কৌশলের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলিকে শাস্তিমূলক শুল্কের মুখে পড়তে হতে পারে। আর ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ইরান থেকে মূলত কিছু কৃষিপণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং অতীতে জ্বালানি তেল আমদানি করত। পাশাপাশি ভারতের বহু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়, যা দেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ।
যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক ভারতের উপর কার্যকর করে, তাহলে ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে পোশাক, গয়না, ওষুধ, প্রকৌশল সামগ্রী এবং অন্যান্য শ্রমনির্ভর শিল্পের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের লাভের মার্জিন কমবে এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্ডারও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘোষণার প্রভাব ইতিমধ্যেই আর্থিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার উপর চাপ বেড়েছে, যার অন্যতম কারণ হিসেবে মার্কিন শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
এছাড়া কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদার, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করাও ভারতের পক্ষে সহজ নয়। ফলে নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে।




