Article By – সুনন্দা সেন

গত দুই বছরে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ডিসকাউন্টেড তেলের ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ান পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আর তারপর থেকে এশিয়ান দুই দেশ- ভারত ও চীণ রাশিয়া থেকে কম মূল্যে ক্রড (অপরিশোধিত তেল) কিনতে শুরু করে। এই সুযোগ ভারতের সরকারি এবং বেসরকারি দুই প্রকাশ শোধনাগারের জন্য নতুন ব্যবসায়িক প্রসার ঘটায়, বিশেষ করে রিলায়েন্স গ্রুপের। কোম্পানিটি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান তেল কিনে পরিশোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল, পেট্রোলসহ নানা পণ্য রপ্তানি করে। তাই হঠাৎ করে আমদানি বন্ধের সীদ্ধান্ত বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় রিফাইনারি ও এনার্জি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ঘোষণা করেছে যে, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে তারা তাদের রপ্তানিমুখী জামনগর রিফাইনারির জন্য আর রাশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করবে না। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং তেলের বৈশ্বিক বাজারে চাপের জেরে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ইরান ও রাশিয়ান তেল–সংযুক্ত ব্যবসা ও শিপিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। এর মধ্যে ভারত–সংযুক্ত কয়েকটি সংস্থা ও জাহাজ পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন, বিমা এবং শিপিং রুটে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে রিলায়েন্স নিজেকে নিরাপদ রাখতে চাইছে। আর এই সিদ্ধান্ত ভারতের সামগ্রিক তেল আমদানিতে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সৌদি আরব, ইরাক, আমেরিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই চারটি বড় উৎস ভারতের জন্য স্থিতিশীলই আছে। সরকারি পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই, তবে আমদানির খরচ ও রিফাইনারি মার্জিনে কিছুটা ওঠানামা দেখা যেতে পারে। সাথে রিলায়েন্সের এই সিদ্ধান্ত ভারতের বৃহত্তর জ্বালানি নীতিতেও একটি সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করাই ভবিষ্যতের পথ।




