Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব ফুয়েল মার্কেটের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ২০২৬ সালে কি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে? আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্কগুলোর সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, দাম কমার চাপ স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে ২০২৬ সালে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে, বিশেষত অ-ওপেক দেশগুলো উৎপাদন দ্রুত বাড়ালে। এতে বাজারে উদ্বৃত্ত তৈরি হবে এবং ফলস্বরূপ দামে নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, ওপেক+ এবং অ-ওপেক উভয় পক্ষ থেকেই সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহ যদি চাহিদাকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে Brent ক্রুডের দাম ২০২৬ সালে বারবার চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতির গতির ওপর নির্ভর করবে চাহিদা কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারে আর সেই ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি হবে ধীরগতির। এদিকে কয়েকটি বড় বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে ২০২৬ সালের শেষভাগে Brent অয়েলের মূল্য নিম্ন ৫০-ডলারের স্তরে চলে যেতে পারে। তবে পুরো বছরের গড় ৫০ ডলারের নিচে থাকবে, অবশ্য এমন ধারণা এখনো মূলধারার পূর্বাভাস নয়।
অন্যদিকে, ওপেক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল চিত্র আঁকছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালে চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান অতটা বড় হবে না, ফলে বাজারে বিশাল ধরনের ক্র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ওপেকের হিসাব বলছে, বর্তমান উৎপাদন পরিকল্পনা বজায় থাকলে বড় ধরনের অতিরিক্ত সরবরাহ বা গ্লাট পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি সীমিত। তবুও স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। যদি হঠাৎ করে উৎপাদন বেড়ে যায় বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ে, কিংবা মজুত দ্রুত না কমে তাহলে Brent অয়েলের দাম অস্থায়ীভাবে ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।




