Article By – সুনন্দা সেন

জ্বালানি রপ্তানির উপর শুল্ক বৃদ্ধি করে কেন্দ্র সরকার বড়সড় আয়ের পথে এগোচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতি পাক্ষিকে, অর্থাৎ প্রতি দুই সপ্তাহে, প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় হতে পারে সরকারের। এই পদক্ষেপ মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ে, তখন ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি রপ্তানিতে বেশি লাভ করে। সেই লাভের একটি অংশ সরকার শুল্কের মাধ্যমে নিজেদের কোষাগারে নিয়ে আসতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বাড়তি রাজস্ব আসবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সাহায্য করবে। কারণ, রপ্তানি কমে গেলে দেশের ভিতরে জ্বালানির প্রাপ্যতা বাড়ে, যা দামের উপর চাপ কমাতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তে তেল সংস্থাগুলির উপর কিছুটা চাপ বাড়তে পারে। কারণ, শুল্ক বাড়ার ফলে তাদের রপ্তানি থেকে লাভের পরিমাণ কিছুটা কমে যাবে। বিশেষ করে বেসরকারি রিফাইনারিগুলির ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার সময়ে সময়ে এই ধরনের শুল্কে পরিবর্তন করেছে। ফলে, এই নীতিকে একটি ‘ডায়নামিক’ বা পরিবর্তনশীল নীতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি আয় সরকারের আর্থিক ঘাটতি কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াবে। অর্থাৎ, জ্বালানি রপ্তানিতে শুল্ক বৃদ্ধি সরকারের জন্য স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর।




