Article By – সুনন্দা সেন

বেতনভোগীদের জন্য বড় সুখবর। খসড়া আয়কর বিধি ২০২৬-এ ফুড কার্ড (খাবারের কার্ড) বা মিল ভাউচারের উপর কর ছাড়ের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১.০৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মিল কার্ডের সুবিধা করমুক্ত হতে পারে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মিলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত করছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন খসড়া বিধিতে সেই সীমা বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকা প্রতি মিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ একজন কর্মী যদি দিনে দু’বার মিল সুবিধা পান এবং মাসে গড়ে ২২ কর্মদিবস ধরা হয়, তাহলে মাসে করমুক্ত সুবিধা দাঁড়াতে পারে ৮,৮০০ টাকা। বছরে সেটাই প্রায় ১,০৫,৬০০ টাকা অর্থাৎ এক লক্ষ টাকারও বেশি অংশ আয়করের আওতার বাইরে থাকবে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বেতনভোগী কর্মীদের হাতে বাড়তি সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে যারা উচ্চ করস্ল্যাবে পড়েন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কারণ করযোগ্য আয় কমলে মোট করের বোঝাও কমে যাবে।
বর্তমানে বহু সংস্থা কর্মীদের বেতন কাঠামোর অংশ হিসেবে মিল কার্ড বা ফুড ভাউচার দেয়। এই কার্ডগুলি সাধারণত রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান বা অফিস ক্যান্টিনে ব্যবহার করা যায়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সংস্থাগুলিও কর্মীদের স্যালারি প্যাকেজ পুনর্গঠন করতে পারে, যাতে কর-সাশ্রয়ী সুবিধা বাড়ানো যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এটি এখনও খসড়া প্রস্তাব। চূড়ান্ত নিয়মে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া পুরনো করব্যবস্থা ও নতুন করব্যবস্থায় এই সুবিধা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়েও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ভাতা ও ছাড় নতুন করব্যবস্থায় সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বেতনভোগীদের ট্যাক্স প্ল্যানিং-এ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বাড়তি সঞ্চয়, উন্নত টেক-হোম স্যালারি এবং কর-সাশ্রয়ী বেতন কাঠামো—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের করব্যবস্থায় এটি হতে পারে অন্যতম বড় পরিবর্তন। এছাড়া বলা চলে যে খাবারের কার্ডে বাড়তি করছাড়ের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বেতনভোগীদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটাই বাড়বে। এখন নজর চূড়ান্ত বিধি জারির দিকে।




