Article By – সুনন্দা সেন

চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশের সরাসরি কর সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেল। আয়কর দপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নেট ডাইরেক্ট ট্যাক্স সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯.৪৪ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯% বেশি। এই পরিসংখ্যান কেন্দ্র সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কর্পোরেট কর আদায়ে ভালো বৃদ্ধি এই উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ।
কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানে অধিক স্বচ্ছতা ও অনুগত্যের ফলে কর্পোরেট ট্যাক্স সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আয়কর ও অন্যান্য নন-কর্পোরেট কর থেকেও আয় বেড়েছে, যদিও তার হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম। মোট বা গ্রস ডাইরেক্ট ট্যাক্স সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২.৭৮ লক্ষ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে করদাতাদের দেওয়া রিফান্ডের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নেট সংগ্রহের অঙ্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় রিফান্ড প্রায় ১৮% কম হয়েছে, যার ফলে সরকারের হাতে নিট রাজস্ব বেশি থেকে গেছে।
সরকার চলতি অর্থবছরে ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশনে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই পূরণ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের আশা, মার্চ মাসের শেষ নাগাদ এই অঙ্ক আরও বাড়বে এবং বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। শক্তিশালী কর সংগ্রহ সরকারের আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবকাঠামো, সামাজিক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল কর ব্যবস্থার বিস্তার এবং GST ও আয়কর ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কর সংগ্রহের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আয়ের করদাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর ফাইলিং প্রক্রিয়া সহজ হওয়াও রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।




