Article By – সুনন্দা সেন

আজ (৭ মার্চ,২০২৬) সকালেই ই‑কমার্স কোম্পানি Meesho‑কে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার আয়কর দাবির নোটিশ জারি করেছে ভারতের আয়কর বিভাগ। এই ট্যাক্স নোটিশ ২০২৩‑২৪ অর্থবছরের (Assessment Year 2023‑24) জন্য দেওয়া হয়েছে এবং এতে সমস্ত মুল ট্যাক্স, সুদ ও অন্য কোনও জরিমানা মিলিয়ে মোট ১,৪৯৯.৭৩ কোটি টাকার দাবি করা হয়েছে। যার তথ্য কোম্পানি নিজে স্টক এক্সচেঞ্জে একটি নিয়মনীতি ফাইলিংয়ে নিশ্চিত করেছে। এই নোটিশটি Income‑tax Act‑এর ১৪৩(৩) ধারা অনুযায়ী করা একটি পুনর্মূল্যায়ন বা মূল্যায়ন অর্ডার এবং এর সঙ্গে ধারা ১৫৬ অনুযায়ী পাওয়া একটি ডিমান্ড নোটিশ, গত ৫ মার্চ ই‑ট্যাক্স বিভাগ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং Meesho ৬ মার্চ তা গ্রহণ করেছে।
Meesho হলো একটি বৃহৎ ই‑কমার্স প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত ছোট বিক্রেতা, পুনর্বিক্রেতা ও ভ্যালু‑সচেতন (Value-conscious) গ্রাহকদের জন্য বাজারে কাজ করে এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। কোম্পানি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫‑এ তার IPO‑তে তালিকাভুক্ত হয়েছিল এবং বাজারে তা গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করে। গত কয়েক মাসে Meesho‑র আর্থিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে তাদের রাজস্ব বাড়লেও নিট ক্ষতি একেবারে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে — যেমন ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে তাদের খরচ ও অপারেটিং ক্ষতির কারণে নেট লস প্রায় তিন‑চৌদ্দ গুণ বেড়ে ৪৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
ট্যাক্স বিভাগের দাবি অনুসারে, Meesho তাদের রিপোর্টকৃত আয়ে কিছু এডিশনে ও সংশোধনী (additions and adjustments) করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে এই বিশাল ট্যাক্স‑ডিমান্ড তৈরি হয়েছে। তবে Meesho এর সঙ্গে একমত নয় এবং তাকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে জানিয়েছে। কোম্পানির তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই মূল্যায়ন অর্ডার ও সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখছে এবং মনে করে তাদের হাতে যথেষ্ট আইনি ও বাস্তব তথ্যভিত্তিক যুক্তি আছে যা দিয়ে তারা এই দাবির বিরুদ্ধেই আদালতে লড়াই করবে।
Meesho‑ এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই ট্যাক্স নোটিশ তাদের বিত্তীয় অবস্থান, ব্যবসার কর্মকাণ্ড বা অপারেশনগুলোর ওপর কোনও বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কোম্পানি ইতোমধ্যে একটি আইনি প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। আগেও Meesho‑কে একই ধরনের একটি ট্যাক্স দাবির নোটিশ জারি করা হয়েছিল ২০২২‑২৩ অর্থবছরের জন্য। সেই দাবির বিষয়ে Meesho‑ এর কর্ণাটক হাইকোর্টের কাছ থেকে সাময়িক স্থগিতাদেশ (interim stay) পাওয়া গিয়েছিল ১৭ এপ্রিল ২০২৫‑এ, এবং সেই মামলাটি এখনো বিচারাধীন আছে। নতুন এই দাবিতেও কোম্পানি সে মামলা এবং আইনি ভিত্তি তুলে ধরছে।




