Article By – সুনন্দা সেন

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা টাইগার গ্লোবাল থেকে বকেয়া কর আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের কর প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাটি মূলত ২০১৮ সালে ওয়ালমার্টের হাতে ফ্লিপকার্টের শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত। ওই সময় টাইগার গ্লোবাল বিপুল অঙ্কের মূলধনী মুনাফা অর্জন করে। তবে সংস্থাটি দাবি করেছিল, ভারত–মরিশাস দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় তারা এই লেনদেনের উপর কর দিতে বাধ্য নয়।
এদিকে আয়কর দপ্তর এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করে এবং কর দাবি তোলে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট আয়কর দপ্তরের পক্ষেই রায় দেয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, টাইগার গ্লোবাল এই লেনদেনে কর ছাড় পেতে পারে না এবং ভারত সরকার আইন অনুযায়ী কর আদায় করতে পারবে। এই রায়ের ফলে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ বা সিবিডিটি এখন আটকে থাকা কর মূল্যায়ন ফের চালু করার ছাড়পত্র পেয়েছে। আর সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বছর ২০১৯–২০-এর কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হবে। কর নির্ধারণ সম্পূর্ণ হলেই বকেয়া কর আদায়ের প্রক্রিয়া চালু করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই করের অঙ্ক হাজার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯৬৮ কোটি টাকা কর কেটে রাখা হয়েছিল। এতদিন আইনি অনিশ্চয়তার কারণে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সরকার এই টাকা চূড়ান্ত কর দাবির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু টাইগার গ্লোবালের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ভবিষ্যতে ভারতীয় সংস্থায় বিনিয়োগ ও শেয়ার বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত চুক্তির ব্যাখ্যা আরও কড়া হতে পারে। একই ধরনের কর ছাড় দাবি করা একাধিক মামলায় এই রায়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




