Article By – সুনন্দা সেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সংক্ষেপে AI, আগামী এক দশকে ভারতের অর্থনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা PwC India-র এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে AI ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP-তে প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত মূল্য যোগ করতে পারে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, AI শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
PwC-র এই সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে AI-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। এই ক্ষেত্রগুলি হল কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উৎপাদন শিল্প। এই সমস্ত সেক্টরে AI ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিষেবার মান উন্নত করা এবং খরচ কমানোর মাধ্যমে বড় অর্থনৈতিক লাভ সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি খাতে AI-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে PwC। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই AI ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেড়শো বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্য সৃষ্টি হতে পারে। ভারতের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আজও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আগামী দিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদাও বাড়বে।
এই পরিস্থিতিতে AI-ভিত্তিক স্মার্ট ফার্মিং, আবহাওয়া ও ফসলের আগাম পূর্বাভাস, জল ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও AI একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতে বহু শিক্ষিত যুবক এমন কাজে নিযুক্ত যেখানে তাদের দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না। PwC-র মতে, AI-ভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা, স্কিল-ম্যাপিং এবং ব্যক্তিগতকৃত লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
জ্বালানি ক্ষেত্রেও AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করা, বিদ্যুৎ অপচয় ও চুরি কমানো এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে AI প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। PwC জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের শক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়বে এবং সেই চাপ সামাল দিতে AI একটি কৌশলগত সমাধান হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও AI-এর ব্যবহার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং টেলিমেডিসিন পরিষেবায় AI ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সহজলভ্য হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে AI বড় ভূমিকা নিতে পারে।




