Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ও রুপির ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্র সরকার অ-প্রয়োজনীয় আমদানির ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশী মুদ্রার সাশ্রয়, রুপিকে স্থিতিশীল রাখা এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যেসব পণ্য ভারতের আমদানি নির্ভরতা তুলনামূলক কম এবং যেগুলি দেশেই উৎপাদন সম্ভব, সেগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক বা বেছে বেছে আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। আর এই বিষয়টি নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এপ্রিল মাসে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২৮.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা মার্চে ছিল ২০.৭ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে বিদেশী বিনিয়োগের গতিকমে যাওয়া এবং তেলের উচ্চমূল্য রুপীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এদিকে আবার সরকার সোনা ও রুপোর আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫% করেছে এবং অধিকাংশ রুপোর আমদানির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর উদ্দেশ্য একটাই, আমদানি বিল কমানোর মাধ্যমে রুপিকে সমর্থন করা।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) বলেছেন, ভারতকে অ-প্রয়োজনীয় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। শিল্পমহলকে তিনি এমন পণ্য চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেগুলি বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশেই তৈরি করা সম্ভব। তাঁর মতে, “মেক ইন ইন্ডিয়া” ও “আত্মনির্ভর ভারত” উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করলেই রুপির ওপর চাপ কমবে এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও মজবুত হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার প্রায় ১০০টি এমন পণ্য চিহ্নিত করছে, যেগুলি বর্তমানে আমদানি করা হলেও ভারতে উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।




