সদ্য প্রকাশিত ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আয়করের কিছু পরিবর্তন আনার কারণে নতুন কর কাঠামো করদাতাদের কাছে অনেক বেশি লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে। পরিবর্তিত আয়করের নিয়ম অনুযায়ী যাঁরা নতুন করকাঠামো বেছে নেবেন তাঁদের জন্য ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে কোনোরকম কর দিতে হবে না। ফলত এই সিদ্ধান্তের ফলে করদাতারা নিঃসন্দেহে পুরোনো করকাঠামোর তুলনায় নতুন কারকাঠামোকে নির্বাচন করবেন। এবং স্বভাবতই যে সমস্ত করদাতার বার্ষিক আয় কম তাঁদের কাছে নতুন করকাঠামো বেছে নেওয়াই শ্রেয় মনে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মোট করদাতাদের 75% নতুন করকাঠামো অনুযায়ী কর প্রদান করে। বাজেটের ঘোষণার ফলে সেই সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মত আর্থিক উপদেষ্টাদের।
এর ফলে করদাতারা পুরোনো করকাঠামো থেকে প্রাপ্ত সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত হবেন। ওল্ড ট্যাক্স রেজিম বা পুরোনো করকাঠামোতে PPF, NSC, SSY, SCSS-এর মতো ট্যাক্স সেভিং ইন্সট্রুমেন্টে বিশেষ করছাড়ের সুবিধা ছিল। পুরোনো করকাঠামো থেকে নতুন কাঠামোয় এলে সেইসব deduction এবং exemption-এর সুবিধা হাতছাড়া হবে করদাতাদের।
নতুন করকাঠামোয় কী কী কর সুবিধা পাওয়া যাবে না?
বিনিয়োগে ধারা 80C : PPF, ELSS, SSY (Sukanya Samriddhi Yojana), NSC (National Savings Certificate), SCSS (Senior Citizens Savings Scheme) ইত্যাদি বিনিয়োগ, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, গৃহঋণের প্রিন্সিপাল সাম।
ধারা 80D : স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামে সর্বাধিক ২৫০০০ টাকা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সর্বাধিক ৫০০০০ টাকা করছাড়।
ধারা 80CCC : পেনশন ফান্ডে প্রিমিয়ামে করছাড়।
ফলে যেহেতু নতুন কর কাঠামোতে এইসব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরকম করছাড় পাওয়া যাবে না, তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, বিনিয়োগকারীরা কেন এখনও এইসব ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন? কারণ ভেবে দেখুন, একজন করদাতা মাত্র 7.1% রিটার্নের প্রেক্ষিতে যদি বছরে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে কোনো কর সুবিধা না পান, তাহলে তার বদলে তিনি বেশি রিটার্ন পেতে ইক্যুইটিতে কেন বিনিয়োগ করবেন না? তাহলে কি এইসব ট্যাক্স সেভিং ইন্সট্রুমেন্টগুলি আর বিনিয়োগযোগ্য নয়? আর্থিক বিশেষজ্ঞরা তেমনটা মনে করেন না।
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বিনিয়োগ এবং ট্যাক্স সেভিংস দুটি ভিন্ন বিষয়। দুটিকে এক না করাই উচিত। ফলে এইধরনের ট্যাক্স সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করা যেতেই পারে। তার কারণ হল PPF এবং SSY-এর মতো বিনিয়োগগুলি থেকে বর্তমানেও ঠিকঠাক রিটার্ন পাওয়া যায়, এবং এই উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে মনে রাখতে হবে এইরকম বিনিয়োগের লক ইন পিরিয়ড অনেকটাই বেশি। ফলে যদি কোনো বিনিয়োগকারী নিজের বিনিয়োগ লক্ষ্য বুঝে অন্য এমন কোনো বিনিয়োগ খুঁজে পান যেখানে ইনভেস্ট করলে ঝুঁকিও কম রয়েছে, লক ইন পিরিয়ডও সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
যে-কোনো ফিক্সড ইনকাম ইন্সট্রুমেন্টে tax saving-এর পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাও আছে। ঝুঁকিবিহীন নিশ্চিত রিটার্ন রয়েছে এই বিনিয়োগগুলিতে। তাছাড়াও যেহেতু লক ইন পিরিয়ড বেশি তাই সঞ্চয়ের একটি নিয়ম তৈরি হয় এবং কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ট্যাক্সের সুবিধা যেমন অবশ্যই দেখা দরকার তেমনই শুধুমাত্র ট্যাক্স বাঁচানোকেই একমাত্র লক্ষ্য ধরলে চলবে না। সুতরাং, নতুন কর কাঠামোয় deduction বা exemption-এর সুবিধাগুলি না থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী এই সমস্ত ইন্সট্রুমেন্টে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবেন বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।





