প্রত্যেকেই কষ্ট করে উপার্জন করেন। আর যদি কষ্ট করে উপার্জিত সম্পূর্ন অর্থ যদি খরচ করে ফেলা হয়, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যত জীবন অন্ধকারে চলে যায়। কেবল নিজের জন্য সঞ্চয় বিষয় নয় যদি সন্তানের জন্যে বিনিয়োগ না করেন তখন সন্তানের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মাঝে হারিয়ে যায়। অবশ্য সকলেই যেহেতু মোটা অঙ্কের টাকা সকলে উপার্জন করতে পারেন না। তাই স্বল্প পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করার পরামর্শ দেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। যার দরুন ভবিষ্যতে যেমন আর্থিক কষ্ট পেতে হবে না তেমন ভাবে বর্তমানও স্বাচ্ছন্দে কেটে যাবে। এছাড়া প্রতিদিন একদম নূন্যতম অর্থ সঞ্চয় করলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা করতে হবে না।

সঞ্চয়ের জন্য বর্তমানে ব্যাংকগুলিতে একাধিক সঞ্চয় প্রকল্প চালু রয়েছে। তবে সেগুলির বেশির ভাগ FD (Fixed Deposit)– এর আকারে টাকা জমা করতে এবং বছরে সুদ প্রদান করে থাকে। অন্যদিকে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য রয়েছে পোস্ট অফিস, সেখানকার স্কিম সংখ্যা বর্তমানে ব্যাংকের স্কিম সংখ্যাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আর অসংখ্য স্কিমের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র মেয়াদী স্কিম হল ‘বাল জীবন বিমা যোজনা’। যা শিশুদের জীবন বিমা কভার করে এবং সুনিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে। আর এই স্কিমে সঞ্চয়ের মূল্য শুনলে হবেন অবাক।
‘বাল জীবন বিমা যোজনা’ স্কিমে আপনারা নিজ সন্তানের নামেই শুধুমাত্র সঞ্চয় করতে পারবেন।
প্রতিদিন মাত্র ৬ টাকা জমা করলে ম্যাচিউরিটিতে মিলবে ১ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রতিদিন ১৮ টাকা জমা করলে পাওয়া যাবে ৩ লাখ টাকা। সঞ্চয়কারীরা প্রতিদিন ৬ টাকা থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারবেন। তার থেকে কম বা বেশি টাকা জমা করার সুবিধা নেই। আর অভিভাবক বা অভিভাবীকারা তাদের ৫ বছর থেকে ২০ বছর অব্দি বয়সী সন্তানদের নামে এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

আর পিতা – মাতার বয়স ৪৫ বছরের বেশি হলে চলবে না। একটি পরিবারের শুধুমাত্র ২ জন সন্তান স্কিমটির সুবিধা পাবেন।
আপনারা নিজের নিকটস্থ পোস্ট অফিসে গিয়ে স্কিমটিতে বিনিয়োগ করতে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমানপত্র জমা দিয়ে সর্বপ্রথম অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। আর যদি স্কিমের পলিসিহোল্ডার অর্থাৎ সন্তানের পিতা/মাতার ম্যাচুরিটির আগে মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে শিশুর পলিসি প্রিয়াম দিতে হয় না, প্রিমিয়াম মকুব করে দেওয়া হয়। চাইল্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের অধীনে প্রতি বছর ১০০০ টাকার বিপরীতে ৪৮ টাকা নিশ্চিত পরিমানে বোনাস স্কিমের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
এছাড়া আপনারা চাইলে নিজের সন্তানের কথা ভেবে সরকারি স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। এছাড়াও প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্কিম। আর সকল স্কিম ডিজাইন করা হয়েছে বিশেষ প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে। এই যেমন ধরুন কিষাণদের জন্যে, অপসর গ্রহণের পরের জীবনের জন্যে, মহিলাদের জন্যে, শিশু কন্যা সন্তানদের জন্য, কারিগরদের জন্যে, চাকুরিরত মানুষদের প্রয়োজন ইত্যাদি উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে Central Government schemes। আপনার জন্যে কোন স্কিমটি সঠিক এবং স্কিমগুলি কী কী সুবিধা দিচ্ছে [জানতে এক্ষুনি লিংকে ক্লিক করুন]।



