Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে সোনার আমদানি শুল্ক হঠাৎ করেই ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করার পর সোনার বাজারে দেখা দিয়েছে বড় বিপদ। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের সোনার চাহিদা প্রায় ৭০% হ্রাস পেয়েছে বা কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে প্রায় ২৫টন সোনার চাহিদা ছিল, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে মাত্র ৭.৫ টন। শুধু এই টুকুই নয়,গ্লোবাল গোল্ড কাউন্সিলের অনুমান, এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের ভারতের মোট সোনার চাহিদা ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি ভারতীয়দের ঐতিহ্যগত আস্থা এখনও অটুট রয়েছে।
এবার প্রশ্ন হলো কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা? আসলে শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সোনার দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে জ্বালানি বা ফুয়েল প্রাইস এবং খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপও রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখন গয়না কেনার সীদ্ধান্ত পিছিয়ে নিচ্ছে। সাথে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য সোনা ১ বছরের জন্য না কেনার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও অনেকটা কাজে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেতারা এখন অপেক্ষা করছেন দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য। অনিশ্চয়তার এই পরিবেশে বড় অঙ্কের কেনাকাটা করতে চাইছেন না অধিকাংশ মানুষ।
এই চাহিদা কমা ও সাধারণ মানুষের ভয়ের কারণে চাপের মুখে জুয়েলারি ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন শহরের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াতে নিজের ব্যবসা বাড়াতে অনেক ব্যবসায়ী বিশেষ ছাড় বা অফার দিতে বাধ্য হচ্ছেন, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে স্মল ও মিডিয়াম জুয়েলারি ব্যবসাগুলোর ওপর চাপ বাড়বে। সরকারের লক্ষ্য ছিল সোনা আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ হ্রাস করা। সেই লক্ষ্য আংশিকভাবে সফল হলেও অর্থনীতিবিদরা নতুন একটি ঝুঁকির কথা বলছেন— সোনা চোরাচালান বৃদ্ধি।




