Article By – সুনন্দা সেন

লক্ষীবারে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সোনার দাম ৩,৩০০ ডলারের উপরে রয়েছে। আর এটি হল হলুদ ধাতুর জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ভারতে আজকে সোনার দাম ৯৫,৫৮০ টাকা। ২৪ ক্যারেট বা 24K সোনার দাম ১ লক্ষ টাকার দিকে ক্রমশ এগোচ্ছে। ১ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম আজ ৮৭,৮৬০ টাকা। যদি না সোনার দাম বৃদ্ধির কারণগুলি পরিবর্তন হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৩,৩৩৩ ডলারে পৌঁছাবে এবং স্বল্পমেয়াদে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে US বাণিজ্য নীতিতে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে সোনা বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতির জন্য কয়েক দশক পর সোনার দামে বুল রান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীন সোনার এক বৃহৎ ক্রেতা হযে উঠেছে। চীনের সোনার মজুদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেকের মতে এর ফলেও সোনার দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চীনের সামগ্রিক মজুদ ২.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীন ১২.৮ টন সোনা কিনেছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারতেও নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির কারণে সোনার উপর নির্ভরতা বাড়ছে। আর এর কারণ হলো মার্কিন ডলারের দামে তীব্র পতন। অগমন্টের গবেষণা প্রধান ডঃ রেনিশা চাইনানি বলেন, ডলারের তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে বিনিয়োগকারীরা আশা করছে যে মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মার্কিন অর্থনীতির জন্য গুরুতর হবে।
বিশ্বব্যাপী মন্দা আসন্ন বলে মনে হচ্ছে এবং এমন সময় সোনায় বিনিয়োগ ঐতিহাসিক ভাবে লাভজনক, তা প্রমাণিত হয়েছে। মন্দার পূর্বাভাস দুর্বল ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারি সোনার দাম বৃদ্ধির পিছনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যখন মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পায় এবং প্রবৃদ্ধি ধীর হয়, তখনও সোনা হলো উত্তল সম্পদ। এমন অবস্থার কারণে তাই সোনা সাপোর্ট পাচ্ছে। আর সোনার দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ভাবে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস। মার্কিন ফেডকে ২০২৫ সালে সুদের হার কমানো শুরু করতে হবে। যা সোনার দামকে উচ্চ স্তরে উন্নীত করবে।




