Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অন্যতম শীর্ষ এয়ারোস্পেস কম্পোনেন্ট নির্মাতা ‘Aequs’ সম্প্রতি বাজারে এনেছে প্রায় ১০২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের IPO। আশ্চর্যের বিষয়, ইস্যুটি বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু Aequs-এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নয়, বরং ভারতের উচ্চ-প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতার প্রতি বিশ্বাসও দ্রুত বাড়ছে। Aequs বহু বছর ধরে Airbus-সহ বিশ্বের বড় এয়ারোস্পেস কোম্পানিগুলিকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু এবার তারা আরও উচ্চ পর্যায়ে উঠতে চাইছে।
বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন ও এয়ারক্রাফ্ট নির্মাতাদের চাহিদা বাড়ছে, সঙ্গে চলছে সাপ্লাই চেইনের বড় পরিবর্তন। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা চায়না-নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিশেষত Aequs একটি বড় সুযোগ পাচ্ছে। যাতে দেশকে গ্লোবাল অ্যারোস্পেস সাপ্লাই চেইনে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। Aequs জানিয়েছে, IPO থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করা হবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আরও উন্নত প্রযুক্তি আনতে এবং নতুন সুবিধা নির্মাণে। এর ফলে শুধু কোম্পানিরই নয়, ভারতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Aequs-এর এই অগ্রগতি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা-এয়ারোস্পেস শিল্পে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য এবং উচ্চ-দক্ষতার চাকরির ক্ষেত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, IPO-র শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে বিনিয়োগকারীরা ভারতের হাই-ভ্যালু ম্যানুফ্যাকচারিং গল্পে আস্থা রাখছেন। ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে, বিমান যন্ত্রাংশ উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি এবং উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবা—এই তিন খাতেই ভারতের দ্রুত বৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। এভাবেই ভারতের উৎপাদন খাত ধীরে ধীরে সস্তা শ্রমভিত্তিক শিল্প থেকে সরে এসে উচ্চ-প্রযুক্তি ও উচ্চ-মূল্যের জটিল উৎপাদন,এই নতুন যুগে প্রবেশ করছে। আর আজকের Aequs-এর সাফল্য সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক।




