Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে খুচরো মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা CPI-এর নতুন ওয়েট কার্যকর হলে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার খুব বেশি বাড়বে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন ওজনের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি গড়ে মাত্র ২০ থেকে ৩০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— CPI বাস্কেটে খাদ্যপণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪০%- এর নিচে নেমে আসার আশঙ্কা। বর্তমানে খাদ্য ও পানীয় খাতের ওজন প্রায় ৪৬%-এর কাছাকাছি। ফলে সবজি, ডাল, চাল বা গমের দামের সামান্য ওঠানামাও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের ভোক্তা ব্যয়ের ধরনে গত এক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের খরচ এখন শুধুমাত্র খাদ্যকেন্দ্রিক নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, বাসস্থান, জ্বালানি এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। নতুন CPI ওয়েইট এই বদলে যাওয়া ভোগব্যয়ের বাস্তব চিত্রকেই প্রতিফলিত করবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, খাদ্যের ওজন কমলেও পরিষেবা ও নন-ফুড আইটেমের গুরুত্ব বাড়বে। এর ফলে আবহাওয়া বা সরবরাহজনিত কারণে খাদ্যদ্রব্যের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি হলেও তার প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর আগের মতো তীব্র হবে না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এতে করে মূল্যস্ফীতির ওঠানামা তুলনামূলকভাবে আরও স্থিতিশীল হতে পারে। এছাড়া রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যদামের অস্থিরতা অনেক সময় এমন ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর মতো মুদ্রানীতি কার্যকর হয় না। খাদ্যের ওজন কমলে RBI- এর কাছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি নির্ধারণ আরও বাস্তবসম্মত ও তথ্যভিত্তিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ওয়েট কমে যাওয়া মানেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির গুরুত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের বড় অংশ এখনও খাদ্যেই ব্যয় হয়। তাই খাদ্যদামের স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতেও সরকারের জন্য একটি বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি সামান্য বাড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও স্পষ্টতা ও স্থিতিশীলতা এনে দেবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।




