Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি (Retail Inflation) মে মাসে বেড়ে ৩.৯৩%-এ পৌঁছেছে। যা এপ্রিলের ৩.৪৮% থেকে বেশি। এর ফলে টানা পঞ্চম মাসে মূল্যস্ফীতি হারের বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। যদিও এই হার এখনও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI-এর ৪%-এর মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রার সামান্য নীচে রয়েছে। তবুও খাদ্য ও জ্বালানির বা ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যচাপ ফের স্পষ্ট হচ্ছে। সাথে মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৭৮% হয়েছে, যা তার আগের মাসে ৪.২০% ছিল।
একই সঙ্গে ফুয়েল প্রাইস বা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খরচেও পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি মে মাসে একাধিক জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন মূল্যস্ফীতি (Transportation Inflation) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল তাদের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের উপরও চাপ বাড়তে থাকার প্রভাব অনুভব করা। যদিও বর্তমান মূল্যস্ফীতি এখনও RBI-এর নির্ধারিত নমনীয় সীমা ২% থেকে ৬%-এর মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চ দাম এবং দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা আগামী মাসগুলিতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেই কারণেই RBI চলতি অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাস ৪.৬% থেকে বাড়িয়ে ৫.১% করেছে। বাজারের জন্য বড় প্রশ্ন হল, মূল্যস্ফীতির এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি কি ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর পথ তৈরি করবে? অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, যদি খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যচাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে RBI-কে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হতে পারে।




