Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের রিটেইল মার্কেট (খুচরা বাজার) এখন এক বিরাট পরিবর্তনকে সম্মুখীন। বহু বছর ধরে যেখানে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা ও ব্যাঙ্গালোরের মতো বড় মেট্রো সিটি গুলি রিটেল বৃদ্ধির কেন্দ্র ছিল সেখানে এই মুহুর্তে টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরগুলি রিটেইল মার্কেটের সর্বাধিক গতি দেখতে পাচ্ছে। রায়পুর, ভুবনেশ্বর, কোয়েম্বাটুর, সুরাট, ভোপাল, লখনৌয়ের মতো শহরগুলিতে মল, সুপারমার্কেট, ব্র্যান্ডেড ফ্যাশান স্টোর, ইলেকট্রনিক্স চেইনসহ সব ক্ষেত্রেই ব্যবসা বহুগুন বেড়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের রিটেইল মার্কেটের ভবিষ্যৎ কেবল মেট্রো সিটিগুলির হাতে নয় বরং উদীয়মান শহরগুলিতে রয়েছে।
আবার এই পরিবর্তনের ফলে ছোট শহরগুলিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, দুটোই বাড়ছে। এছাড়া অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, পরিবহণ, বিদ্যৎসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। সবমিলিয়ে ছোট শহরগুলো ভারতের রিটেইল ইকোনমিক নতুন গ্রোথ ইঞ্জিন হয়ে উঠেছে। অবশ্য চাহিদা বাড়ার সাথে চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমত, অনেক শহরেই লিস্টিক্স ও সাপ্লাই টেইন দুর্বল এবং পর্যাপ্ত পার্কিং, রাস্তা এবং পরিবহন ধীর গতিতে এগোচ্ছে। আবার অন্যদিকে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে এবং রিটেইল চেইনগুলোর জন্য লাভজনক হওয়ায় বেশ কঠিন এখনও কিছু ক্ষেত্রে।
বড় মেট্রো সিটি গুলি রিটেল বৃদ্ধির পাশাপশি পাল্লা দিয়ে এই মুহুর্তে টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরগুলি রিটেইল মার্কেটের বুম কীভাবে সম্ভব?–
- মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি: ছোট শহরগুলিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপক বেড়েছে। ব্র্যান্ডেড পোশাক, মোবাইল, কসমেটিক্স—সব ক্ষেত্রে খরচ বাড়ছে।
- লাইফস্টাইল পরিবর্তন: মল-সংস্কৃতি, ক্যাফে, QSR (কুইক সার্ভিস রেস্টুরেন্ট), সিনেমাহল—সবক্ষেত্রে তরুণ ও পরিবারভিত্তিক গ্রাহকদের চাহিদা বাড়ছে।
- এক্সপানশন অফ রিটেল রিয়েল এস্টেট: ডেভেলপাররা এখন বেশি করে মল, শপিং সেন্টার ও কমার্শিয়াল স্পেস তৈরি করছেন, কারণ এখানে নতুন বাজারের সুযোগ বিশাল।
- ব্র্যান্ডগুলোর গুরুত্ব: বড় বড় ব্র্যান্ড বুঝে গেছে, দেশের সর্বাধিক ক্রেতা এখন এই শহরগুলোতেই।
এ কারণেই আগামী ৩–৫ বছরে বড় কোম্পানিগুলো তাদের ৫০–৬০% নতুন স্টোর টিয়ার–২/৩ শহরে খুলতে চলেছে।




