বর্তমানের আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তার মাঝে মার্কেট ভোলাটিলিটি সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের মনোভাব পরিবর্তন, অর্থনীতির বদল, বৈশ্বিক বিভিন্ন ঘটনা ইত্যাদির ফলে চিরাচরিত বিনিয়োগ পদ্ধতিগুলি বেশ চাপের মুখে পড়ে, মূলত ভোলাটিলিটির কারণে ভয় বা অতিরিক্ত রিটার্নের লোভে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু quant-based investment strategy-র কারণে উচ্চ অস্থিরতা থাকার পরও ধারাবাহিক রিটার্ন পাওয়া সম্ভব হয়। চলুন জানা যাক এই কৌশল কী এবং কীভাবে এটি কাজ করে।
পরিকল্পিত এবং নিয়মমাফিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তথ্য এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকে quant-based strategy। সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি ব্যবহার না করে বিশাল সংখ্যক ডেটা ব্যবহার করে প্যাটার্ন এবং ট্রেন্ড বুঝতে চেষ্টা করে এই পদ্ধতিটি। অ্যালগরিদম ব্যবহার করে একসঙ্গে একাধিক তথ্য যেমন, অতীতের ডেটা, রিয়াল টাইম মার্কেট ডেটা, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার মনোভাব বুঝে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিশাল পরিমাণ তথ্য প্রসেস করার পর বাজারে সামগ্রিক একটি চিত্র করে সম্ভাব্য সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করে, যেটি সাধারণভাবে খোঁজা সম্ভব নয়।
Quant strategy-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সাধারণ মানব বিনিয়োগকারীরা যেমন স্বল্পমেয়াদি কোনো খবরে প্রভাবিত হয়ে পড়ে, quant strategy-তে পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে শুধুমাত্র যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে ভয় বা লালসা জাতীয় পক্ষপাত কাজ করে না। Quant strategy পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। চিরাচরিত বিনিয়োগ কৌশল বাজারের হঠাৎ পরিবর্তনে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না। ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সময় লেগে যায়। অন্যদিকে, quant strategy real time information ব্যবহার করে, ফলত মার্কেট ভোলাটিলিটির সময়ে দ্রুত পোর্টফোলিওর পরিবর্তন ঘটাতে পারে। পাশাপাশি এই কৌশল সম্পর্কে বারেবারে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। এই কৌশল সম্পর্কে অতীতের ডেটা নিয়ে টেস্ট করা হয় যাতে ভিন্ন ভিন্ন মার্কেট পরিস্থিতিতে এটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এই ব্যাকটেস্টিং-এর ফলে স্থির ও অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করবে এই কৌশলটি সেই সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
আমেরিকার মতো উন্নত মার্কেটে এই পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়, সেখানে 35%-এর বেশি ইক্যুইটি quantitative পদ্ধতির সাহায্যে পরিচালিত হয়। তবে ভারতের মতো emerging market-এ quantitative পদ্ধতি অবলম্বন করতে সময় লাগবে। এর কারণ হল অতীতের তথ্য বা ডেটা তেমনভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। বেসরকারি নিয়ন্ত্রণ উন্নত হচ্ছে এবং ভারতীয় মার্কেট বর্তমানে অনেক বেশি লিক্যুইড, যার ফলে উচ্চমানের ডেটা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
Quant -based strategy-র একাধিক সুবিধা থাকার কারণে সেইসব বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে যাঁরা শুধুমাত্র ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা ফান্ড পরিচালনার পরিবর্তে quant-based schemes-এর খোঁজ করছেন।
PMS Bazaar-এর তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় quant-based স্কিমের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে ২০২৩ সালের আগস্টে ছিল ১৬টি স্কিম যা এই quantitative পদ্ধতি অনুসরণ করত, ২০২৪-এর আগস্টে সেই স্কিমের সংখ্যা বেড়ে হয়ে ৩২টি। এছাড়াও গত ১ বছরে quant-based portfolio management service গড় রিটার্ন দিয়েছে মোটামুটি 51%, সেখানে non-quant PMS স্কিমগুলি 38.56% রিটার্ন দিয়েছে ওই সময়ের মধ্যে।
Quant-based investment strategy-র সুবিধা:
1. পক্ষপাত কমায়: অ্যাক্টিভ স্ট্র্যাটেজিতে ফান্ড ম্যানেজারের যদি কোনো নির্দিষ্ট স্টকের প্রতি পক্ষপাত বা bias থেকে থাকে তাহলে স্টকটি underperform করলেও তিনি স্টকটি হোল্ড করে রাখতে পারেন এই আশায় যে পরবর্তী স্টকটি ভালো পারফর্ম করবে। অন্যদিকে quant-based strategy অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
2. ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত: Quant strategy-তে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় যা সঠিক ডেটার উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়, ধারণার ওপর ভিত্তি করে নয়।
3. খাপ খাইয়ে নেওয়া: বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই মডেলগুলি পরিবর্তিত হয়। ফলে পোর্টফোলিওতে real time পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।
বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ হল Quant, এবং বর্তমানে এর সামান্য পরিমাণ ব্যবহারই সম্ভব হয়েছে ভারতে। তথ্য, প্রযুক্তি এবং নিয়মমাফিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বিনিয়োগ কৌশল বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে, তাও আবার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রেখে।




