buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Mutual fund

কেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলি expense ratio ধার্য করে?

যদি আপনি শেয়ার বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানবেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলি প্রতিদিনের শেষে NAV বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ভাগ করে দেওয়ার আগে একটি ফি ধার্য করে। তবে যাঁরা নতুন বিনিয়োগকারী তাঁদের কাছে হয়তো ফি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। এই ফি আসলে কী, কেন কাটা হয়, কখন কাটা হয় ইত্যাদি বিষয়গুলি পরিষ্কার নয়। আজকের আলোচনায় আমরা দেখে নেব মিউচ্যুয়াল ফান্ডের expense ratio কী, এটি বের করার নিয়ম কী, expense ratio-র মধ্যে কোন ফি-গুলি যুক্ত রয়েছে, রিটার্নে এর প্রভাব কী ইত্যাদি সম্পর্কে।

6 2

Expense ratio কী?

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে যে যে বিষয়গুলি বুঝে ও যথাযথ মূল্যায়ন করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তাদের মধ্যে একটি হল expense ratio। কোনো একটি ফান্ড পরিচালনা করতে একটি ফান্ড হাউস যে অর্থ চার্জ করে তাকে expense ratio বলে। ফান্ডের NAV অর্থাৎ Net Asset Value গণনার আগে ফান্ডের মোট অ্যাসেট থেকে এই চার্জটি কেটে নেওয়া হয়। এখানে জানিয়ে রাখি NAV-র ভিত্তিতেই বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের ইউনিট কেনা বেচা করেন।

আপনারা দেখে থাকবেন expense ratio-কে ফান্ডের মোট অ্যাসেটের percentage বা শতকরা হিসেবে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ যদি কোনো ফান্ডের expense ratio 1% হয়, তার অর্থ হল ফান্ডের প্রতি ১০০ টাকা ইনভেস্টমেন্টের জন্য বছরে ১ টাকা করে চার্জ করা হবে। Expense ratio বেশি হওয়ার অর্থ ফান্ড পরিচালনার খরচ বেশি। 

Expense ratio-র ফরমুলা:

Expense ratio= (মোট বার্ষিক খরচ / নেট অ্যাসেট) x 100

মোট বার্ষিক খরচ বলতে বোঝায় একটি ব্যবসা চালাতে যে পরিমাণ খরচ করতে হয় সেটি। এই খরচগুলির মধ্যে রয়েছে অফিস খরচ, কর্মচারীদের বেতন, ইউটিলিটি ইত্যাদি।

অন্যদিকে নেট অ্যাসেট হল ফান্ডের মোট ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ।

অর্থাৎ যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট বার্ষিক খরচ থাকে ১ লাখ টাকা এবং নেট অ্যাসেট ১ কোটি টাকা হয় তাহলে expense ratio হবে—

Expense ratio = (১ লাখ / ১ কোটি) x 100 = 1%

Expense ratio-র মধ্যে কোন খরচগুলি যুক্ত থাকে?

  • পরিচালনা খরচ:  এটি হল ফান্ড ম্যানেজারের ফি বা খরচ। ফান্ড পরিচালনার জন্য ফান্ড ম্যানেজার এই ফি পেয়ে থাকেন।
  • অ্যাডমিনিস্ট্রেশন খরচ:  ফান্ডের হিসাবনিকাশ, আইন-সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনার জন্য এই চার্জটি ধার্য করা হয়।
  • মার্কেটিং ও ডিস্ট্রিবিউশন-সংক্রান্ত খরচ:  এই খরচটি ব্রোকাররা পেয়ে থাকে অথবা ফান্ড বিক্রয় করতে সাহায্য করার জন্য ফান্ডের আর্থিক উপদেষ্টা পেয়ে থাকেন।
  • অন্যান্য অপারেটিং খরচ:  কাস্টোডিয়ান ফি, ট্রান্সফার এজেন্ট ফি ইত্যাদি খরচগুলি অন্যান্য অপারেটিং খরচের মধ্যে ধরা হয়।

কোন বিষয়গুলি expense ratio-তে প্রভাব ফেলে?

  • ফান্ডের ধরন:  মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনার দিক থেকে সাধারণত দুই প্রকারের হয়–– অ্যাক্টিভ ম্যানেজমেন্ট এবং প্যাসিভ ম্যানেজমেন্ট। যে ফান্ডগুলি অ্যাক্টিভ ফান্ড অর্থাৎ অ্যাক্টিভ বা সক্রিয়ভাবে ম্যানেজ করা হয় সেগুলির ক্ষেত্রে বেশি রিসার্চের প্রয়োজন হয়। তাই এইসব ফান্ডের ক্ষেত্রে expense ratio বেশি। অন্যদিকে প্যাসিভ ফান্ডের expense ratio কম।
  • ফান্ডের আকার:  সাধারণত নতুন বা স্মল ক্যাপ কোম্পানিগুলির expense ratio অধিক হয়, লার্জ ক্যাপের তুলনায়।
  • অ্যাসেট ক্লাস:  যেসব ফান্ড স্মলক্যাপ কোম্পানি বা আন্তর্জাতিক কোনো স্টকে বিনিয়োগ করে তাদের ট্রেডিং খরচ বেশি হয় এবং রিসার্চ বেশি করতে হয়, তাই expense ratio বেশি হয়।
  • ফান্ড প্ল্যান:  মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দুটি ধরন–– direct plan অর্থাৎ যে ফান্ড সরাসরি ফান্ড হাউস থেকে কেনা হয়, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া এবং অন্যটি হল regular plan যেখানে একজন আর্থিক উপদেষ্টার মাধ্যমে ফান্ড কেনা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই regular fund-এর expense ratio বেশি।
11

রিটার্নে expense ratio-র প্রভাব:

ফান্ডের net asset value অর্থাৎ NAV থেকে প্রতিদিন expense ratio কাটা হয়। তবে মনে রাখতে হবে কোনো ফান্ডের বিবরণীতে যে expense ratioটির উল্লেখ থাকে সেটি বার্ষিক expense ratio অর্থাৎ বছরে চার্জ করা হয়। অর্থাৎ যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের expense ratio হয় 1.5% তাহলে প্রতিদিন (1.5% / 365 days)= প্রায় 0.0041% চার্জ কাটা হবে। এবং এই ফি-টি NAV ক্যালকুলেশনের আগেই কেটে নেওয়া হয। তাহলে ফান্ডের রিটার্নে expense ratio-র প্রভাব কী? দেখে নেওয়া যাক। ফান্ডের রিটার্নে expense ratio-র সরাসরি প্রভাব আছে। এক্সপেন্স রেশিও যত কম হবে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের পরিমাণ তত বেশি হবে। কারণ গণনার আগে মোট রিটার্ন থেকে expense ratio কেটে নেওয়া হয়। 

ধরা যাক, দুটি ফান্ড A এবং B বার্ষিক 10% রিটার্ন দেয় এবং ফান্ড A-এর expense ratio 1.5% এবং ফান্ড B-এর expense ratio 0.50%। তাহলে নেট রিটার্ন পাওয়া যাবে––

ফান্ড A = (10% – 1.5%)= 8.5%

ফান্ড B= (10% – .50%)= 9.5%

এই পার্থক্য সামান্য মনে হলেও long run-এ কম্পাউন্ডিং এর কারণে ফারাক হবে বিস্তর। অর্থাৎ ধরুন আপনি দুটি ফান্ডেই এককালীন ১ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করলেন ৫ বছরের জন্য 10% রিটার্ন ধরে। তাহলে রিটার্নের পার্থক্য হবে:

ফান্ড A = ১.৫৩ লাখ টাকা রিটার্ন আসবে এবং ৫ বছরে মোট expense ratio হিসাবে প্রায় ১২ হাজার টাকার কাছাকাছি চার্জ করা হবে।

ফান্ড B = ১.৬১ লাখ টাকা এবং ৫ বছরে মোট expense ratio হিসাবে কাটা হবে ৪ হাজার টাকার মতো। 

অর্থাৎ ৮ হাজার টাকার বড়সড় অ্যামাউন্ট বাদ দিয়ে আপনি রিটার্ন পাবেন যদি আপনি ফান্ড A-তে বিনিয়োগ করেন।

তবে মনে রাখা দরকার যখনই দুই বা তার বেশি ফান্ডের মধ্যে expense ratio নিয়ে তুলনা করবেন, অবশ্যই তখন একই ধরনের ফান্ডের মধ্যে তুলনা করা প্রয়োজন। এছাড়াও expense ratio-র পাশাপাশি ফান্ডের পারফরমেন্স, ঝুঁকি ইত্যাদি যাচাই করে বিনিয়োগ করা উচিত। 

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading