শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রথম থেকেই সঠিক স্টক বাছাই থেকে শুরু করে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী এবং ট্রেডার টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের সাহায্য নেন। যেহেতু প্রত্যেক ইনভেস্টার ও ট্রেডার শেয়ার বাজারে লাভের আশায় বিনিয়োগ করেন তাই ট্রেড-সংক্রান্ত এমন বহু টুল রয়েছে যেগুলির যথাযথ ব্যবহার ট্রেডিং সহজ করে এবং মুনাফা তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ায়। সেইরকমই একটি টুল যা বিনিয়োগকারীরা ব্যবহার করেন স্টকের ভবিষ্যতের দাম নির্ধারণ করতে, সেটি হল moving average। ট্রেডাররা কিছু সময়ের জন্য ধরা যাক, ৩০ দিন, শেয়ারের গড় মূল্য দেখে দামের ওঠানামা বুঝতে চেষ্টা করেন।
আজকের আলোচনায় আমরা জানব moving average বিষয়টি কী, ৩০ দিন বা 30-day moving average কী, এবং কেন এই অ্যানালাইসিসটি গুরুত্বপূর্ণ।
Moving average কী?
Long term বিনিয়োগের থেকে ট্রেডিং বিষয়টি অনেক কঠিন। সঠিক জ্ঞান না থাকলে প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে ট্রেডিং যদি সঠিক নিয়ম মেনে, সঠিক কৌশল অনুযায়ী করা যায় তাহলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেতে পারে। সেইরকমই একটি কৌশল হল moving average। আর্থিক পরিভাষায় মুভিং অ্যাভারেজ একটি ইন্ডিকেটর বা নির্দেশক যা দিয়ে কোনো স্টকের টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস করা হয়। মূলত কোনো স্টকের গতিবিধি এবং support ও resistance বুঝতে মুভিং অ্যাভারেজ বের করা হয়।
এখানে ছোটো করে support ও resistance বিষয়টি বোঝা যাক। ধরুন, কোনো স্টকের দাম কমতে শুরু করল। তারপর হঠাৎই স্টকের ডিমান্ড বা চাহিদা এতটাই বেড়ে গেল যে দাম একটি পয়েন্টের নীচে আর নামল না। সেখান থেকে আবার উপরের দিকে উঠতে থাকল। সেই পয়েন্ট বা লেভেলকে support বলে। আর অন্যদিকে, কোনো স্টকের supply বা জোগান যখন এতটাই বেড়ে যায় যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দাম তার বেশি আর ওঠে না, সেই লেভেলকে বলে resistance। অর্থাৎ স্টকের support এবং resistance জানতেও সাহায্য করে moving average। তবে moving average যেহেতু অতীতের দামের উপর নির্ভর করে অ্যানালাইস করা হয়, তাই এটিকে trend-following indicator বলে। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা আলাদা সময়ের moving average দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যেমন, স্বল্প সময়ের moving average ব্যবহার হয় স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং-এর জন্য। অন্যদিকে বেশি সময়ের moving average দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে দেখা হয়।
অর্থাৎ moving average হল এমন একটি কৌশল যেটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি স্টকের ভ্যালু এবং দামের গড় গতিবিধির উপর নির্ভর করে তৈরি।
30-Day moving average কী?
বিগত ৩০ দিনে একটি স্টকের দামের গড় গতিবিধি জানা যায় এমন একটি টেকনিক্যাল নির্দেশক বা ইন্ডিকেটর হল 30-Day moving average। ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে ৩০ দিনকে যেহেতু অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদ ধরা হয়, তাই 30-day moving average হল একটি short-term technical indicator। কোনো স্টকের বিগত ৩০ দিনের গড় closing price-এর গণনা করা হয় 30-day moving average-এর মাধ্যমে। যখন বিনিয়োগকারীরা স্বল্প মেয়াদের বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজেন, তখন এই পদ্ধতিটি স্টকটির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গতিবিধি বুঝতে সাহায্য করে।
30-day moving average-এর গুরুত্ব কী?
বিনিয়োগকারীরা মুভিং অ্যাভারেজের অর্থ বুঝতে পারলে খুব সহজেই দামের গড় বের করে স্বল্পমেয়াদে দামের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারবেন। 30-day moving average স্বল্পমেয়াদের জন্য বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন––
- সহজ গণনা: স্টকের ৩০ দিনের গড় ওঠানামা ক্যালকুলেট বা গণনা করা বেশ সহজ এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের তুলনায় এটি অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে সহজতম নির্দেশক।
- মার্কেট ট্রেন্ড বোঝা: স্বল্পমেয়াদে বাজারের মনোভাব বা গতিবিধি জানতেও সাহায্য করে 30-day moving average। এমনকি আপনি চাইলে প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সময়ের moving average বের করতে পারেন। Moving average নিম্নগামী হলে বাজার নিম্নমুখী রয়েছে বোঝায় আবার যদি ঊর্ধ্বগামী হয় তাহলে বোঝা যায় বাজার uptrend-এ রয়েছে।
- অভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত: এই ইন্ডিকেটরের সাহায্যে বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং সহজে অর্ডার প্লেস করতে পারেন।
- স্বল্পমেয়াদি কৌশল: স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য 30-day moving average সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। যেহেতু আসলে দামের সবচেয়ে কাছে থাকে এই গড় মানটি, তাই স্বল্পসময়ের মধ্যে মুনাফা লাভের সুযোগ থাকে বিনিয়োগকারীদের।
প্রত্যেক ট্রেডারের ট্রেডিং লক্ষ্য আলাদা হয়। যাঁরা স্বল্পসময়ের মধ্যে লাভ নিতে চান তাঁদের জন্য 30-day moving average সম্ভাব্য কার্যকরী একটি ইন্ডিকেটর। তবে যে-কোনো ইন্ডিকেটর ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য মেট্রিকগুলি দেখা জরুরি।





