যেসব বিনিয়োগকারীরা আয়করের 80C ধারার করের সুবিধা নিতে চান তাঁদের কাছে ELSS বা Equity-Linked Savings Scheme বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো একটি বিকল্প। তবে করের সুবিধা এবং সম্পদ তৈরির সুযোগ থাকলেও এই ফান্ডে বিনিয়োগের সময় ইনভেস্টররা কিছু কিছু ভুল করেন যা শেষ পর্যন্ত রিটার্নে প্রভাব ফেলে। এই ভুলগুলি এড়িয়ে চললে ELSS ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা বহু গুণ বাড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে ELSS ট্যাক্স-সেভিং সুবিধা প্রদান করে ঠিকই, তবুও এটির রিটার্ন বাজারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই বিনিয়োগের আগে এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলা উচিত?
→ লক ইন পিরিয়ড : ELSS ফান্ডের নির্দিষ্ট একটি লক ইন পিরিয়ড থাকে, ৩ বছরের। যদিও অন্যান্য ট্যাক্স সেভিং বিনিয়োগের তুলনায় এই লক ইন পিরিয়ড অনেকটাই কম, তা সত্ত্বেও লক ইন পিরিয়ড নিয়ে কিছু ভুল বোঝার কারণে রিটার্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন,
- প্রিম্যাচিউর উইথড্র : লক ইনের বিষয়টি না জেনে যেকোনো সময়ে ফান্ড অ্যাক্সেস করতে চাইলে এক্সিট লোড দিতে হয়, যা রিটার্ন কমিয়ে আনে।
- লক ইনের পর পরই রেডেম্পশন : অনেকেই লক ইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর পর এক্সিটের কথা চিন্তা করেন, এর ফলে লং টার্মে ইক্যুইটি গ্রোথের সম্ভাবনা নষ্ট হয়।
এই সব ভুল না করে ELSS ইনভেস্টমেন্টকে লং টার্ম লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কেট কম্পাউন্ডিং-এর সুবিধে নেওয়া উচিত।
→ ফান্ড পারফরমেন্স : অতীতের রিটার্ন দেখার পাশাপাশি risk-adjusted মেট্রিকগুলোও দেখা দরকার। এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন। যেমন,
- শুধু অতীতের রিটার্ন দেখা : অতীতের ভালো রিটার্ন ভবিষ্যতের রিটার্নের নিশ্চয়তা দেয় না। ফান্ডের ধারাবাহিক ফলাফল দেখুন এবং ফান্ড ম্যানেজারের দক্ষতা যাচাই করুন।
- বেঞ্চমার্ক না দেখা : ফান্ডের পারফরমেন্স কেমন জানতে ইনডেক্স বা বেঞ্চমার্কের সঙ্গে তুলনা না করা।
সেই কারণে যথাযথ রিসার্চের মাধ্যমে দেখুন আপনার নির্বাচিত ফান্ডটি ঝুঁকি ও লক্ষ্য অনুযায়ী উপযুক্ত কিনা।
→ শেষ মুহূর্তে বিনিয়োগ : অনেক বিনিয়োগকারী অর্থবর্ষের শেষে কর বাঁচাতে ELSS ফান্ডে বিনিয়োগ করেন। এটি করার কারণে যে ভুলগুলি হয় সেগুলি হল
- Lump sum-এর ঝুঁকি : ভোলাটাইল মার্কেটে lump sum বিনিয়োগের কারণে রিটার্ন প্রভাবিত হতে পারে।
- সুযোগ হাতছাড়া হওয়া : বছরের শেষে বিনিয়োগ না করে সিস্টেমেটিক উপায়ে SIP-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে rupee cost average হয়ে ঝুঁকি কমে।
→ পোর্টফোলিও ডিভার্সিফিকেশন : মনে রাখতে হবে ELSS ফান্ড একটি ইক্যুইটি ফান্ড। সুতরাং ইক্যুইটি ফান্ড হিসেবে শুধুমাত্র ELSS ফান্ডে এক্সপোজার পোর্টফোলিওর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন,
- ঝুঁকি বৃদ্ধি : ELSS ফান্ডে অতিরিক্ত এক্সপোজার সেক্টরভিত্তিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
- ডিভার্সিফিকেশনের অভাব : Debt, gold ইত্যাদি অ্যাসেটে সমানভাবে অ্যালোকেট না করলে ডিভার্সিফিকেশনের অভাব দেখা দেয়।
→ আর্থিক লক্ষ্য : বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য বোঝা জরুরি। ফলে ELSS ফান্ডে বিনিয়োগের আগে বোঝা উচিত বিনিয়োগটি আপনার আর্থিক লক্ষ্য এবং ঝুঁকির সঙ্গে মানানসই কিনা।
- দীর্ঘ মেয়াদের পরিকল্পনা : কর বাঁচাতে শর্ট টার্ম মনোভাব নিয়ে ELSS ইনভেস্টমেন্ট না করে লং টার্মে wealth creation-এর কথা ভাবুন।
- সঠিক অ্যালোকেশন : কোনো একধরনের ফান্ডে বিনিয়োগ ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সেই জন্য ELSS ফান্ডে অতিরিক্ত বিনিয়োগ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
এছাড়াও নিয়মিত ফান্ডের পারফরমেন্সে নজর রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও লক ইন পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে রিটার্ন পুনর্বিনিয়োগ করুন যাতে মার্কেট বাড়তে থাকলে রিটার্নে সেই সুবিধা পাওয়া যায়।
অর্থাৎ আমরা জানলাম, ELSS হল এমন একটি ফান্ড যা ইক্যুইটির মতো রিটার্ন দেওয়ার পাশাপাশি করের সুবিধাও প্রদান করে। তবে বিনিয়োগের আগে উপরোক্ত ভুলগুলি করলে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।





