buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Stockf

ফেস ভ্যালু কী? স্টক নির্বাচনে ফেস ভ্যালু দেখা কতটা জরুরি?

স্টকের ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করার সময় ফেস ভ্যালু বলে একটি বিষয় দেখে থাকবেন। ফেস ভ্যালু আসলে কী? এর গুরুত্ব কতটা? জানব আজকের আলোচনায়। 

July 18 New in article ads By Sir 1

ফেস ভ্যালু কী? 

ফেস ভ্যালু হল স্টকের ন্যূনতম দাম যেটি শেয়ার সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকে। এটিকে par value-ও বলে। যখন প্রথমবারের জন্য কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করে তখন তখনই ফেস ভ্যালু ঠিক করা হয়, এবং এটি মার্কেট ভ্যালুর মতো পরিবর্তন হয় না, একই থাকে। মার্কেট ভ্যালু যেমন চাহিদা ও যোগানের জন্য এবং কোম্পানির ফলাফলের ভিত্তিতে বাড়ে এবং কমে, কিন্তু ফেস ভ্যালু এক থাকে। Security and Exchange Board of India-র নিয়ম অনুযায়ী ফেস ভ্যালুর সর্বনিম্ন মান ১ টাকা হতেই হবে। 

অর্থাৎ ফেস ভ্যালু হল শুধুমাত্র একটি সংখ্যা যা স্টকের ন্যূনতম দামকে নির্দেশ করে। স্টকের আসল মূল্য বা স্টক থেকে রিটার্ন কেমন আসবে সেই ব্যাপারে কিছুই জানা যায় না ফেস ভ্যালু থেকে। ফেস ভ্যালু ১ টাকা হতে পারে আবার ১০ টাকাও হতে পারে। যেমন যদি কোনো কোম্পানি ১০০০ টি শেয়ার ইস্যু করে এবং প্রতিটির ভ্যালু ভ্যালু হয় ১০ টাকা তাহলে ওই কোম্পানির মোট শেয়ার ক্যাপিটাল হবে (১০০০ x ১০)= ১০০০০ টাকা। 

স্টক নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকে জানতে চান ফেস ভ্যালু কত থাকলে স্টক কেনা উচিত। কিন্তু আপনাকে জানতে হবে যে ফেস ভ্যালু সরাসরি স্টকের দামে বা স্টকের সম্ভাব্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে না। কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, গ্রোথ, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইত্যাদি স্টকের মার্কেট প্রাইসকে প্রভাবিত করে। কারণ সত্যিই যদি ফেস ভ্যালু মার্কেট প্রাইসকে প্রভাবিত করত তাহলে Nalco-র ফেস ভ্যালু(১ টাকা) বেশি হওয়ার কারণে তার মার্কেট প্রাইসও অন্য আর একটি peer company Hindalco(৫ টাকা)-র থেকে বেশি হত। কিন্তু দুটিই একই ইন্ডাস্ট্রির কোম্পানি হলেও Nalco-র মার্কেট প্রাইস Hindalco থেকে কম। 

শেয়ারের নামফেস ভ্যালু মার্কেট প্রাইস 
Nalco 5Rs. 648.90(as on 8 November, 2024)
Hindalco 1Rs. 238.55(as on 8 November, 2024)

সুতরাং কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল, বিজনেস মডেল, বৃদ্ধি, ইত্যাদির দ্বারা মার্কেট প্রাইস নির্দিষ্ট হয়, ফেস ভ্যালুর দ্বারা নয়। তাই শেয়ার নির্বাচনের সময় ফেস ভ্যালু দেখার প্রয়োজনীয়তা নেই। তাহলে কি এর কোনো তাৎপর্য নেই? হ্যাঁ বিনিয়োগকারীদের কাছে ফেস ভ্যালুর কিছু তাৎপর্য রয়েছে। কিছু কর্পোরেট অ্যাকশন ফেস ভ্যালু দ্বারা প্রভাবিত হয়। চলুন দেখে নেয়া যাক কী সেইগুলি—

→ স্টক স্প্লিট : স্টক স্প্লিটের মতো কর্পোরেট অ্যাকশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ফেস ভ্যালুর। কোম্পানি যখন স্টক স্প্লিটের সিদ্ধান্ত নেয় তখন ফেস ভ্যালু ও মার্কেট ভ্যালু কমিয়ে শেয়ারের সংখ্যা বাড়ায়। স্টক স্প্লিটের কারণে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে সস্তা হয়।  যেহেতু স্টক স্প্লিটে আউটস্ট্যান্ডিং শেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হয় তাই মার্কেট ক্যাপ একই রাখতে প্রতি শেয়ারের ফেস ভ্যালু এবং মার্কেট প্রাইস কমিয়ে আনা হয়। ধরা যাক, একটি স্টকের ফেস ভ্যালু ১০ টাকা, আর মার্কেট প্রাইস ৫০০০ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি। এবার যদি কোম্পানি ১ টি শেয়ারকে স্প্লিট করে ১০ টি শেয়ার করতে চায় তাহলে ফেস ভ্যালু ১০ গুণ কমে ১ টাকা হবে, এবং শেয়ারের দাম ৫০০০ টাকা থেকে কমে ৫০০ হবে এবং আউটস্ট্যান্ডিং শেয়ারের সংখ্যা ১ কোটি থেকে ১০ গুণ বেড়ে ১০ কোটি হবে। 

7 3

স্প্লিটের আগে: 

শেয়ার সংখ্যাফেস ভ্যালু মার্কেট প্রাইস মার্কেট ক্যাপ 
১ কোটি১০ টাকা৫০০০ টাকা৫০০০ কোটি

স্প্লিটের পরে: 

শেয়ার সংখ্যাফেস ভ্যালু মার্কেট প্রাইস মার্কেট ক্যাপ 
১০ কোটি১ টাকা৫০০ টাকা৫০০০ কোটি

অর্থাৎ স্টক স্প্লিটে মার্কেট ক্যাপ একই থাকে, শুধু ফেস ভ্যালু ও মার্কেট প্রাইসের পরিবর্তন হয়ে কমে এসে ও শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে যায়।

→ ডিভিডেন্ড : কোম্পানি ডিভিডেন্ড প্রদানের সময় মার্কেট প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে ডিভিডেন্ড দেয় নাজ বরং face ভ্যালুর ওপর ভিত্তি করে ডিভিডেন্ড দেয়। অর্থাৎ যদি কোনো কোম্পানির ফেস ভ্যালু থাকে ১০ টাকা এবং মার্কেট প্রাইস থাকে ২০০০ টাকা এবং কোম্পানিটি যদি ঘোষণা করে 100% ডিভিডেন্ড দেবে তাহলে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ২০০০ টাকা নয়, সেটি হবে face ভ্যালুর 100% অর্থাৎ (১০ টাকা x 100%) = ১০ টাকা। আবার যদি অন্য একটি কোম্পানির ফেস ভ্যালু থাকে ১ টাকা এবং সেই কোম্পানিটিও 100% ডিভিডেন্ড ঘোষণা করল তাহলে এক্ষেত্রে সেই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা ১ টাকার 100% অর্থাৎ ১ টাকাই ডিভিডেন্ড পাবেন। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি ডিভিডেন্ড আয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে ফেস ভ্যালু অবশ্যই দেখতে হবে। 

এতক্ষণ আলোচনার পর আমরা জানলাম ফেস ভ্যালু কী এবং মার্কেট প্রাইসের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী। স্টক নির্বাচনের সময় ফেস ভ্যালুর মতো স্টকের ন্যূনতম মূল্য না দেখে কোম্পানির বৃদ্ধির কৌশল, কোম্পানিটির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার ক্ষমতা, ফান্ডামেন্টাল ইত্যাদি দেখা বিশেষ জরুরি। কোম্পানির প্রফিট কত, রেভিনিউ গ্রোথ কী, লং term-এ কোম্পানির পরিকল্পনা কী– এগুলি জানতে হবে।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading