buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Stock market

শেয়ার বাইব্যাকের ট্যাক্সের নতুন নিয়ম শেয়ারহোল্ডার ও কোম্পানির ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব ফেলবে?

শেয়ারের বাইব্যাকের ক্ষেত্রে নতুন করের নিয়ম, যা এই বছর ১ অক্টোবর থেকে লাগু হয়েছে, সেটি শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও কোম্পানি কীভাবে নিজেদের ফিনান্সিয়াল রিসোর্স ভাগ করবে যাতে শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি ও প্রফিট বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় অর্থাৎ এক কথায় কীভাবে ক্যাপিটাল অ্যালোকেট করবে তার ওপরও প্রভাব পড়বে এই ট্যাক্সের নিয়মের। ২০২৪-এর বাজেটে এই নিয়মের পরিবর্তন হয়েছে যেখানে করের বোঝা কোম্পানি থেকে সরিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। ফলে buyback-এর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ডিভিডেন্ডের মতো হয়ে গেছে যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের ট্যাক্স স্ল্যাব রেট অনুযায়ী কর দিতে হবে। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক শেয়ারহোল্ডার এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে বাইব্যাকের করের নিয়ম পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে। 

9

শেয়ারহোল্ডারদের ওপর প্রভাব : বর্তমানে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর বাইব্যাকের করের বোঝা বেশি হবে। আগে বাইব্যাক ট্যাক্স কোম্পানিকে দিতে হত এবং ১৯৬১-র আয়কর আইনের সেকশন 115QA অনুযায়ী কোম্পানিকে 23.296% কর দিতে হত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ডিভিডেন্ডের মতো বাইব্যাকের ক্ষেত্রেও শেয়ারহোল্ডাররাই কর দেবেন এবং নিজেদের ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী কর প্রযোজ্য হবে। ফলে সেটি আগে কোম্পানি দ্বারা প্রদত্ত 23.296%-এর তুলনায় বেশি হবে। সেই কারণে উচ্চ কর সীমার আওতায় যাঁরা পড়েন তাঁদের ক্ষেত্রে করের বোঝা 30% পর্যন্তও হতে পারে, যে কারণে বাইব্যাক বর্তমানে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আগের তুলনায় কম আকর্ষণীয়। এছাড়াও যেহেতু এখন কোম্পানির বদলে শেয়ারহোল্ডাররা কর প্রদান করবেন তাই ট্যাক্স-পরবর্তী রিটার্নও কমে আসবে। 

সেই কারণে বর্তমানে শেয়ারহোল্ডাররা বাইব্যাকের তুলনায় ডিভিডেন্ডকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। ডিভিডেন্ড, বাইব্যাকের তুলনায় অধিক অনুমানযোগ্য কারণ যেখানে কোম্পানির প্রয়োজনে বাইব্যাক অফার দেওয়া হয়, সেখানে ডিভিডেন্ড নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রদান করা হয়। ফলে এর নিশ্চয়তা বেশি। পাশাপাশি, ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত নিশ্চিত আয়ের একটি উপায়। ফলে যেসব শেয়ারহোল্ডাররা বাইব্যাককে ভরসা করতেন, তাঁরা সম্ভবত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির দিকে বেশি ঝুঁকবেন।
কোম্পানির ওপর প্রভাব : এখন যেহেতু করের ভার শেয়ারহোল্ডারদের কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে তাই কোম্পানিগুলি বাইব্যাকের কর প্রদানের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করত, বর্তমানে সেই ফান্ড নতুনভাবে অ্যালোকেট করতে পারে। ফলে কোম্পানির মূলধন ও অন্যান্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির কাজে ব্যবহারের সুযোগ বাড়ল। কোম্পানি এখন expansion অর্থাৎ প্রসার, নতুন কোম্পানি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্য প্রস্তুত ইত্যাদি বৃদ্ধিমূলক কাজগুলিতে নজর দিতে পারবে। এছাড়াও কোম্পানি বর্তমানে নিজেদের অতিরিক্ত নগদ বাইব্যাকে খরচ না করে, নিজেদের ব্যালেন্স শিট, ক্রেডিট রেটিং ইত্যাদি উন্নত করতে কাজে লাগাতে পারে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা কমাবে ও কোম্পানির অর্থনীতি উন্নত করবে। বর্তমানে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বাইব্যাক আগের মতো আকর্ষণীয় আর নেই। সেই কারণে কোম্পানি বাইব্যাকের বদলে নিজেদের অতিরিক্ত আয় নিজেদের কাছেই রাখতে পারে এবং রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট, টেকনোলজি ঋণ পরিশোধের কাজে ব্যবহার করতে পারে। এতে কোম্পানির সামগ্রিক ফলাফল ভালো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা বোঝায় থাকবে।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading