buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Stock

শেয়ার বাজারে টিকে থাকতে হলে লংটার্মই কি ভরসা? কী বলছে রিপোর্ট?

বর্তমানে শেয়ার বাজার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতনতার কারণে, বেশি সংখ্যক বিনিয়োগকারী এখন ইক্যুইটিতে ট্রেডিং করেন। এইসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে কর্পোরেট, DII অর্থাৎ ডোমেস্টিক ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর, FII অর্থাৎ ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর, FPI অর্থাৎ ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টর, একক বিনিয়োগকারী প্রমুখ।

8 3

তবে ওনারশিপ বা মালিকানার নিরিখে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টদের আধিপত্য অনেক কম। সেপ্টেম্বর ২০২৪ অনুযায়ী NSE-র লিস্টেড মার্কেট ক্যাপের মাত্র 9.6% ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরদের অধীনে। এছাড়া সরকারের অধীনে রয়েছে 10.5% স্টেক, ফরেন প্রোমোটারদের অধীনে রয়েছে 8.3% এবং মোট ম্যাকেট ক্যাপের 32.8% স্টেক রয়েছে ভারতীয় প্রোমোটারদের হাতে। 

কিন্তু যদি ট্রেডিং ভলিউমের নিরিখে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টররা অধিকাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে। ইন্ডিভিজ্যুয়াল বা একক ইনভেস্টরদের মধ্যে রয়েছে ডোমেস্টিক ইনভেস্টর, NRI, sole proprietorship firm এবং HUF। NSE-এর cash segment-এ ইন্ডিভিজ্যুয়াল বিনিয়োগকারীদের ট্রেড ভলিউম ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ছিল 35.5%। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের নভেম্বর পর্যন্ত এই শতকরা হার কিছুটা কমে 34.9% হলেও এখনও এটিই সর্বাধিক ট্রেডিং ভলিউম। আর এই পরিমাণ ট্রেডিং ভলিউম কেবলমাত্র ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টেদের থাকার কারণ হল অন্যান্য বিনিয়োগকারী অর্থাৎ FII, DII, FPI প্রমুখের ট্রেড ভলিউম কম থাকা।

ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরের পরে proprietary trader-দের (ব্রোকার, যারা নিজেদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রেড করে) cash market-এ পরবর্তী বৃহত্তম ট্রেডিং ভলিউম রয়েছে 28.2%। এইসব proprietary trader-রা নিজেদের ট্রেড অর্ডার ‘ক্লায়েন্ট’ হিসাবে বা ‘প্রর্পাইটারি ট্রেড’ হিসেবে নির্দিষ্ট করবেন। এছাড়াও ট্রেডিং ভলিউমের নিরিখে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পার্সেনটেজ 14.8%, DII 11.7%, কর্পোরেট 4.9% এবং অন্যান্যরা 4.7%।

এবারে দেখে নেওয়া যাক দীর্ঘসময়ের জন্য ট্রেডের ভিত্তিতে কোন বিনিয়োগকারীর স্থান কোথায়। ২০০২-২০০৩-এর সঙ্গে ২০২৪-২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তুলনা করলে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরের দীর্ঘমেয়াদের ট্রেডের পরিমাণ প্রায় একই আছে, আগে ছিল 36.6% এখন 34.9%। এই একই সময় প্রপ্রাইটারি ট্রেড ভলিউম আগের 42.5% থেকে কমে হয়েছে 29%। অন্যদিকে DII-দের ট্রেড ভলিউম বেড়ে হয়েছে 11.7%। আবার FPI অর্থাৎ Foreign Portfolio Investor-দের পার্সেনটেজ 5.9% থেকে বেশ খানিকটা বেড়ে হয়েছে 14.8%, ওই সময়ের মাঝে।

এবার ডেরিভেটিভ সেগমেন্ট কোন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কতটুকু দেখা যাক। NSE-তে ডেরিভেটিভ চুক্তির মোট ভ্যালুর ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের নভেম্বর পর্যন্ত proprietary trade হয়েছে 60%, ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টররা ট্রেড করেছে 25.2%। অন্যান্যরা যেমন FPI 7%, কর্পোরেট 4.7% ও বাকি 3%। DII-দের এই বিভাগে অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে, মাত্র 0.1%।

10

আবার যদি বেশি সময়ের জন্য ডেরিভেটিভ ট্রেডিং-এর পরিমাণ দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে ২০০২-২০০৩-এর তুলনায় বর্তমানে অনেকটাই বেশি অংশগ্রহণ রয়েছে প্রপ্রাইটারি ট্রেডারদের, আগে যা ছিল 46.2%, বর্তমানে সেটি হয়েছে 60%। অন্যদিকে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরদের অংশগ্রহণ আগের 33.5% থেকে কমে বর্তমানে হয়েছে 25.2%। কর্পোরেট অংশগ্রহণও ২০০২-২০০৩-এর নিরিখে বর্তমানে কমেছে, আগে ছিল 10.4%, বর্তমানে হয়েছে 4.7%। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ 4% থেকে বেড়ে হয়েছে 7%।

কিন্তু একজন ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টর হিসাবে কেন ট্রেডিং এড়িয়ে লংটার্মে মনোনিবেশ করা উচিত?

প্রপ্রাইটারি ট্রেডার অর্থাৎ সেইসব ব্যক্তি যারা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে ফার্মের টাকায় ট্রেড করে ফার্মের প্রফিট বাড়ায়। ফলে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরদের তুলনায় প্রপ্রাইটারি ট্রেডারদের ক্যাশ এবং ডেরিভেটিভ সেগমেন্টে ডে ট্রেডিং-এর বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রপ্রাইটারি ট্রেডাররা অনেক বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাঁরা পেশাদার এবং সারাদিন শেয়ার বাজারে অনেকটা সময় কাটান। ফরেন ইনভেস্টর বা প্রপ্রাইটারি ট্রেডাররা বিভিন্ন অ্যালগরিদম মেনে নিজেদের ডেরিভেটিভ ট্রেড এক্সিকিউট করেন। সেই কারণে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টরদের অনুপাতে প্রপ্রাইটারি ট্রেডারদের এই ট্রেডগুলি শেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা বেশি। সেই কারণে আপনি যদি একজন ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইনভেস্টর হয়ে থাকেন এবং আপনার যদি পেশাদার শিক্ষা না থাকে তাহলে ডেরিভেটিভ বা ডে ট্রেডিং এড়িয়ে লংটার্ম বিনিয়োগ করা উচিত।

এর একটি কারণ আছে। SEBI অর্থাৎ Securities and Exchange Board of India ২০২০-এর অতিমারির আগে ও তারপরে ক্যাশ সেগমেন্টে একটি ট্রেন্ড লক্ষ করেছে। এই ট্রেন্ড অনুযায়ী –

→ ইন্ডিভিজ্যুয়াল ডে ট্রেডারদের মধ্যে 71% শেয়ার বাজারে লস করেছে। এছাড়াও যাঁরা বছরে ৫০০-এর ওপর ট্রেড করে তাঁদের লসের অনুপাত বেড়ে 80% হয়েছে।

→ যাঁরা প্রফিট করেছেন তাঁদের তুলনায় যাঁরা লস করেছেন তাঁদের গড় ট্রেড সংখ্যা বেশি। 

→ 90% ডেরিভেটিভ ট্রেডাররা লস করেছেন।

→ আর, ইন্ডিভিজ্যুয়াল ট্রেডার যাঁরা ডেরিভেটিভে ১ লাখের বেশি প্রফিট করতে পেরেছে, তাঁদের সংখ্যা মাত্র শতকরা 1%। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ট্রেডিংয়ে লাভের সুবিধে প্রচুর থাকলেও সঠিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা না থাকলে লস হয় অনেক। তার থেকে লং টার্মের বিনিয়োগ অনেক বেশি সুরক্ষিত।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading