কোম্পানি দুভাবে অর্থসংগ্রহ করতে পারে। প্রথমত, তারা শেয়ার ইস্যু করতে পারে অথবা দ্বিতীয়ত, ডিবেঞ্চারের মতো debt instrument ইস্যু করতে পারে। দুটিই fund raising বা অর্থ সংগ্রহের উপায় হলেও দুটি বিনিয়োগই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা আচরণ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক শেয়ারহোল্ডার ও ডিবেঞ্চারহোল্ডারের মধ্যে পার্থক্য কী।
শেয়ারহোল্ডার কারা?
কোম্পানির শেয়ার যিনি কিনেছেন তিনি শেয়ারহোল্ডার। শেয়ার কেনা অর্থ হল কোম্পানির মালিকানার একটি অংশ কেনা। কোনো একক ব্যক্তি, অন্য কোম্পানি বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী যেমন মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোম্পানির শেয়ার কিনে শেয়ারহোল্ডার হতে পারে।
যেমন ধরুন আপনি ইনফোসিসের ৫০টি শেয়ার কিনছেন। ফলে আপনি ওই কোম্পানির একজন শেয়ারহোল্ডার। যেহেতু কোম্পানির কিছু অংশ, খুব সামান্য হলেও আপনি কিনেছেন তাই কোম্পানির সফলতায় আপনার আগ্রহ থাকবে এবং কোম্পানি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি ও ডিভিডেন্ড থেকে আপনি লাভ করার সুযোগ পাবেন। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারে, বোর্ডের সদস্যদের নির্বাচন করতে পারে, কোম্পানি থেকে ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে লাভ করতে পারে। এছাড়াও কোনো কারণে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে অর্থাৎ liquidate হলে অ্যাসেটের একটি অংশ পেতে পারে শেয়ারহোল্ডাররা। এবার কোম্পানির সিদ্ধান্তে একজন শেয়ারহোল্ডারের মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে সেটি তার অংশীদারিত্বের উপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ যদি কোনো শেয়ারহোল্ডার কোনো কোম্পানির 2% শেয়ার কিনে থাকেন এবং অন্য আরেকজন 1% শেয়ার কিনে থাকেন তাহলে 2% holder-এর মতামত বা ভোট বেশি গুরুত্ব পাবে।
ডিবেঞ্চারহোল্ডার কারা?
কোম্পানির ডিবেঞ্চার কিনে যে ব্যক্তি কোম্পানিকে টাকা ধার দেয় তাকে ডিবেঞ্চারহোল্ডার বলে। এবার জানতে হবে ডিবেঞ্চার কী? ডিবেঞ্চার হল আসলে এক ধরনের ঋণপত্র যা কোম্পানি ইস্যু করে থাকে। ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করার ফলে কোম্পানি ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের কাছ থেকে অর্থ ধার করে। শেয়ারহোল্ডাররা যেমন একাধারে কোম্পানির অংশীদারও বটে তবে ডিবেঞ্চারহোল্ডাররা অংশীদার নয়, তারা ঋণদাতা। কোম্পানি নির্দিষ্ট মেয়াদের ও নির্দিষ্ট সুদের হারে ডিবেঞ্চার ইস্যু করে। ইনভেস্টররা ডিবেঞ্চার কিনে কোম্পানিকে টাকা ধার দেয়। এরপর কোম্পানি নিয়মিত সুদ প্রদান করে ডিবেঞ্চারহোল্ডারকে। মেয়াদ শেষে কোম্পানি ডিবেঞ্চারহোল্ডারকে নিজের মূল অর্থ ফেরত দিয়ে দেয়।
যেমন, ধরুন, একটি কোম্পানি একটি ১০ বছরের মেয়াদের ডিবেঞ্চার ইস্যু করল যার সুদের হার 7%। এবার আপনি যদি ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে ১০ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ৩৫০০ টাকা করে interest-ই পাবেন। ১০ বছর শেষে ৫০,০০০ টাকা আবার ফেরত পেয়ে যাবেন।
Debenture holder ও Shareholder-এর মধ্যে পার্থক্য
| মাপকাঠি | Shareholder | Debenture holder |
| মালিক বনাম ঋণদাতা | কোম্পানির আংশিক মালিক হল শেয়ারহোল্ডার। কোম্পানির সম্পত্তি ও মুনাফার তারা অংশীদার। কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে তাদের বিনিয়োগ বাড়ে এবং ডিভিডেন্ড থেকেও লাভ হয়। | অন্যদিকে, ডিবেঞ্চারহোল্ডাররা কোম্পানির ঋণদাতা। তারা কোম্পানিকে ঋণ দেয় এবং পরিবর্তে সুদ পায়। তারা কোম্পানির মালিক নয়। |
| ঝুঁকি ও রিটার্ন | শেয়ারের দাম যেহেতু ক্রমাগত কেনা বা বেচার কারণে ওঠে নামে তাই শেয়ারহোল্ডাররা বেশি ঝুঁকি বহন করে। তবে রিটার্নও বেশ আকর্ষণীয়। শেয়ারের দাম বাড়লে যেমন বেশি লাভ হয়, একইভাবে দাম হঠাৎ পড়তে থাকলে প্রভূত ক্ষতি হয়। | ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের ঝুঁকি তুলনায় কম থাকে এবং রিটার্ন যেহেতু আগে থেকেই স্থির থাকে, তাই সুদ নিশ্চিত পেতে পারা যায়। এমনকি কোম্পানি যদি প্রফিট না-ও করে তবুও সুদ প্রদানে বাধ্য থাকবে। |
| ভোটাধিকার | শেয়ারহোল্ডারদের ভোটাধিকার তাকে। ফলে কোম্পানির মূল্যবান সিদ্ধান্তে ভোট দানের অধিকার তারা পায়। | অন্যদিকে, ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের অধিকার থাকে না। ফলে তারা ভোট দিতে পারে না। |
| আয় | শেয়ারের দামবৃদ্ধির পাশাপাশি ডিভিডেন্ড তেকেও আয় হতে পারে শেয়ারহোল্ডারদের। তবে ডিভিডেন্ড প্রদানে কোম্পানি বাধ্য নয়। কোনো কোম্পানি চাইলে ডিভিডেন্ড দিতে পারে। | ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের আয়ের একমাত্র উৎস ইন্টারেস্ট। পূর্বনির্ধারিত রেটে তারা সুদ পেতে থাকে মেয়াদ চলাকালীন সময়ে। |
| মেয়াদ | শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হোল্ডিং-এর কোনো মেয়াদ নেই। তারা যতদিন চায় শেয়ার হোল্ড করে রাখতে পারে। | ডিবেঞ্চারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। মেয়াদ ফুরলে ডিবেঞ্চারহোল্ডারকে তার মূল বিনিয়োগ অর্থ অর্থাৎ principle amount ফেরত দেওয়া হয়। |
| রূপান্তর | শেয়ারকে ডিবেঞ্চারে পরিবর্তন করা যায় না। | কিন্তু ডিবেঞ্চারের একটি প্রকার হল convertible debenture, যেটা শেয়ারে রূপান্তর করা যায়। |
| লিক্যুইডেশন | লিক্যুইডেশন হলে শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের প্রাপ্ত ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের পরে পায়। | লিক্যুইডেশন বা ব্যবসা বন্ধ হলে সবার আগে ডিবেঞ্চারহোল্ডারের দায় মেটানো হয়, অর্থাৎ প্রথম প্রাধান্য পায় ডিবেঞ্চারহোল্ডার, তারপর শেয়ারহোল্ডারদের দায় মেটানো হয়। |
| স্বাধীনতা | শেয়ারহোল্ডারদের হাতে বেশি স্বাধীনতা তাকে কারণ তারা যখন ইচ্ছে শেয়ার বিক্রি করতে পারে। | ডিবেঞ্চারহোল্ডাররা ডিবেঞ্চারের মেয়াদ ফুরোনোর আগে নিজেদের বিনিয়োগ ফেরত পায় না। |
আলোচনা শেষে বোঝা গেল, কোম্পানির অর্থনেতিতে শেয়ার এবং ডিবেঞ্চার ইভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে ফলে শেয়ারহোল্ডার ও ডিবেঞ্চারহোল্ডারদের গুরুত্বও যথেষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রে। কিন্তু দুটি সত্তাই একে অপরের থেকে ঝুঁকি, অধিকার বা লাভের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি কোম্পানির শেয়ার কিনবেন নাকি ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করবেন তা আপনার লক্ষ্য, ঝুঁকি, বিনিয়োগ করবেন তা আপনার লক্ষ্য, ঝুঁকি, বিনিয়োগ কৌশল ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করছে। তবে পোর্টফোলিওতে যথেষ্ট diversification আনতে equity-র পাশাপাশি debenture-এর মতো debt investment করা হলে ঝুঁকি ও রিটার্নের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।




