শেয়ার মার্কেট যখন নিম্নমুখী থাকে সেই সময়টি সকল বিনিয়োগকারীদের কাছেই উদ্বেগের। বিশেষত একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি নিজের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য বাজার-সম্বন্ধীয় সম্পদে রাখেন তাহলে তাঁর পক্ষে বিষয়টি আরও চিন্তার। শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক অস্থিরতা শুধুমাত্র যে পোর্টফোলিও-র ভ্যালুই কমিয়ে দেয় তা নয়, পাশাপাশি retirement corpus অর্থাৎ অবসরের সঞ্চয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কীভাবে নিজের পোর্টফোলিও পরিচালনা করবেন যাতে এই সকল যাবতীয় অস্থিরতা মোকাবিলা করা যায়? আমরা আলোচনা করব কীভাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিচক্ষণ আর্থিক পরিকল্পনা এবং নিয়মমাফিক কৌশলের মাধ্যমে নিজের অর্থনৈতিক জীবনের রদবদল না করেই এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবেন।
→ নগদ বজায় রাখুন : অবসরকালের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হল এইসময় প্রত্যক্ষ আয়ের উৎস সাধারণত থাকে না। ফলে বাজারের ভোলাটিলিটি এই সময় যাতে অবসর জীবনে প্রভাব না ফেলতে পারে তাই অন্তত পক্ষে ২ থেকে ৩ বছরের জীবনযাত্রায় খরচ পরিচালনার জন্য অর্থ লিক্যুইড অ্যাসেটে বিনিয়োগ করুন, যেমন, debt fund, বা fixed deposit। তবে মনে রাখবেন debt fund-এ টাকা রাখলে অবশ্যই liquid debt fund বা short term debt fund-এ বিনিয়োগ করবেন যাতে বাজারের অস্থিরতার সময়ে আপনাকে কম দামে equity investment না বিক্রি করতে হয়। যাতে আপনি লিক্যুইডিটির জন্য আপনার FD বা debt fund থেকে টাকা withdraw করতে পারেন, কারণ এই অ্যাসেটগুলি equity-linked নয়। ফলে বাজারে নিম্নগামিতা দেখা দিলেও এগুলির উপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
→ Equity থেকে withdrawal কম রাখুন : অবসরের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় SWP অর্থাৎ Systematic Withdrawal Plan-এর মাধ্যমে নিয়মিত cashflow বজায় রাখেন অনেকে। তবে market downturn-এর সময়ে অর্থাৎ নিম্নমুখী থাকাকালীন অবস্থায় চেষ্টা করুন ইক্যুইটি ফান্ড থেকে withdrawal-এর পরিমাণ কম রাখতে যাতে ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টগুলি মার্কেট কারেকশন হওয়ার পর বেশি সময় ধরে রিকভার করার সুযোগ পায়।
→ লক্ষ্য পূরণে ইক্যুইটি অ্যালোকেশন কমিয়ে আনা : আমরা প্রত্যেকে এক একটি লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করি। চেষ্টা করুন উক্ত লক্ষ্যটি পূরণ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে STP অর্থাৎ Systematic Transfer Plan-এর মাধ্যমে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ debt fund-এ অ্যালোকেশন সরিয়ে আনার। কারণ হঠাৎ শেয়ার বাজারে downturn শুরু হলে আপনার কষ্ট করে গড়ে তোলা সঞ্চয় নিমেষে নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেই কারণে যদি আপনি ১০ বছরের মেয়াদে কোনো ইক্যুইটি ফান্ডে টাকা রাখেন তাহলে অবশ্যই ১০ বছর হওয়ার আগেই ধীরে ধীরে ইক্যুইটি থেকে অ্যালোকেশন কমিয়ে ডেট ফান্ডে ফান্ড অ্যালোকেট করুন। এতে ঝুঁকিও কমে এবং বাজারের অস্থির অবস্থায় পোর্টফোলিওর ভ্যালু বিশেষ কমে না।
→ পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং : একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজের পোর্টফোলিও সম্পর্কে অধিক যত্নশীল হওয়া উচিত। সময়ে সময়ে অ্যাসেট অ্যালোকেশন দেখা প্রয়োজন যাতে বোঝা যায় পোর্টফোলিওতে যথেষ্ট লিক্যুইডিটি আছে কিনা। এছাড়া দেখা দরকার পোর্টফোলিও যথেষ্ট diversified কিনা এবং স্বল্পকালীন ভোলাটিলিটি মোকাবিলাতে সক্ষম কিনা। মনে রাখা দরকার ইক্যুইটি অ্যালোকেশন দীর্ঘমেয়াদি মনোভাব নিয়ে করা উচিত এবং ইক্যুইটিতে লার্জ ক্যাপের অ্যালোকেশন অধিক রাখা উচিত কারণ লার্জ ক্যাপ তুলনায় কম ভোলাটাইল।
সবশেষে বলা যায়, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভারতীয় শেয়ার বাজার যথেষ্ট নিম্নমুখী হয়েছে, তা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে আসল ভ্যালুতে ফিরেও এসেছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের মূল মন্ত্র হল স্বল্পমেয়াদের বদলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করা। কারণ দেখা গেছে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজারের ভোলাটিলিটি অনেক কমে যায়। সেইজন্য সঠিক পরিকল্পনামাফিক বিনিয়োগ করলে অবসরকালীন সময়ে বাজার নিম্নমুখী হলেও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলা সম্ভব।





