যখন কোনো কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে, কিন্তু কোনো শেয়ারহোল্ডার সেই ডিভিডেন্ড ক্লেইম করে না, তাকে unclaimed dividend বলে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, ডিভিডেন্ড একটি আয়ের উৎস হওয়ার পরও একজন শেয়ারহোল্ডার সেটি ক্লেইম করবেন না কেন। এর একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় কোম্পানির কাছে শেয়ারহোল্ডারের নতুন আপডেটেড তথ্য থাকে না, আবার অনেক সময় কিছু শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি প্রদত্ত ডিভিডেন্ড সম্পর্কে জ্ঞাত থাকেন না। এইভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত যদি কোনো ডিভিডেন্ড ক্লেইম না করা হয় তখন সেটি unclaimed dividend হিসেবে চিহ্নিত হয়। কোনো কোম্পানি যদি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে তাহলে সেটি শেয়ারহোল্ডারদের প্রদান করার দায়বদ্ধতা থাকে কোম্পানিটির। তবে যদি ঘোষিত ডিভিডেন্ড ৭ বছরের বেশি সময় ধরে দাবি না করা হয়, তাহলে কোম্পানি সেটি ইনভেস্টর এডুকেশন প্রোটেকশন ফান্ড অথরিটি(IEPF)-কে হস্তান্তর করতে পারে।
Unclaimed dividend মানে কী?
কোম্পানি যখন প্রফিট করে তখন তার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়, যাকে ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ বলে। তবে কোম্পানি ডিভিডেন্ড প্রদানে বাধ্য নয়, চাইলে কোনো কোম্পানি নিজেদের প্রফিট ব্যবসার প্রসারের কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু একবার ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর সেই ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার আইনি বাধ্যতা তৈরি হয় কোম্পানির। বর্তমানে শেয়ারহোল্ডাররা খুব সহজেই ডিভিডেন্ড পেতে পারেন বা ক্লেইম করতে পারেন। যদি তাঁদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সক্রিয় কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা থাকে, তাহলে ঘোষিত ডিভিডেন্ড ব্যাংক অ্যাকাউটে ছিল আসবে।
কিন্তু বেশ কিছু কারণ থাকে যখন ডিভিডেন্ড unclaimed থেকে যায়। যেমন, যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে কোনো ভুল থাকে, তাহলে ডিভিডেন্ড ক্রেডিট হয় না। এছাড়াও যদি শেয়ারহোল্ডার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনোপ্রকার আপডেশন করিয়ে থাকে এবং সেই সম্পর্কে ব্রোকারকে না জানায়, তাহলেও শেয়ারহোল্ডার ডিভিডেন্ড পান না। আবার প্রাইমারি শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু হলে এবং তার পরিবর্তে নমিনি বা উত্তরাধিকারীর কোনো তথ্য ব্রোকারের কাছে না থাকলে ডিভিডেন্ড unclaimed থেকে যায়।
কীভাবে unclaimed ডিভিডেন্ড ইনভেস্টর এডুকেশন প্রোটেকশন ফান্ড অথরিটি-র কাছে হস্তান্তর হয়?
ধরা যাক, এক বিনিয়োগকারী শেয়ারের ডিমেটারিয়ালাইজেশনের বহু পূর্বে কোনো এক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন, যখন হাতেকলমে শেয়ার কেনাবেচা চলত। ফলে বর্তমানে ডিমেটারিয়ালাইজেশন হওয়ার পর কোম্পানি বারংবার ডিভিডেন্ডের ঘোষণা করলেও তিনি সেই ডিভিডেন্ড পেলেন না। এমতাবস্থায় কোম্পানি সেই ব্যক্তির ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েও কোনো উত্তর পায়নি কারণ ঠিকানা ভুল ছিল। যেহেতু বহু বছর আগে বিনিয়োগ করা হয়েছিল তাই ইমেইলের মতো যোগাযোগ মাধ্যম না থাকায় তার সাহায্যেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। ব্যাংকের যে যাবতীয় তথ্য দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও পুরোনো তথ্য। ফলে কোনোভাবেই কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি। ওই বিনিয়োগকারী বিগত ৭ বছর ধরে ডিভিডেন্ড নিচ্ছেন না।
এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে যেখানে
শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো রাস্তা নেই, সেখানে কোম্পানি সমস্ত ডিভিডেন্ড IEPF অর্থাৎ ইনভেস্টর এডুকেশন প্রোটেকশন ফান্ডের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
Unclaimed ডিভিডেন্ডের তথ্য কোথায় পাবেন?
নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুযায়ী একে একে এগোলে unclaimed ডিভিডেন্ড সম্পর্কে জানা যাবে—
- IEPF-এর পোর্টালে গিয়ে ‘Search Unclaimed/Unpaid Amount’-এ ক্লিক করতে হবে।
- এবার একটি স্ক্রিন আসবে যেখানে সেই ব্যক্তির নাম দিতে হবে যার unclaimed ডিভিডেন্ড সম্পর্কে আপনি জানতে চান। এবার ‘search’-এ ক্লিক করলে আপনার সামনে সার্চের ফলাফল আসবে।
- সেই ফলাফল থেকে আপনি যে ব্যক্তির জন্য সার্চ করছেন সেটি খুঁজে নিয়ে ক্লিক করতে হবে।
- ক্লিক করার পর সেই ব্যক্তির সমস্ত ডিটেইল দেখা যাবে। এরপর ‘submit’ বোতামে ক্লিক করলে সেই ব্যক্তির নামে যে কটি unclaimed ডিভিডেন্ড রয়েছে তার তালিকা আপনি দেখতে পারবেন।
তবে মনে রাখবেন ডিভিডেন্ড IEPF-এ স্থানান্তরিত হওয়া মানেই শেয়ারহোল্ডার আর সেটি ক্লেইম করতে পারবেন না, তেমন নয়। তার জন্য তাঁকে আবেদন জমা করতে হবে এবং সরকারি সমস্ত নথি ও আইনি কাগজপত্র জমা করতে হবে।
কীভাবে ক্লেইম করবেন?
IEPF ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘service’ ট্যাবের মধ্যে ‘claim refund’ অপশনটিতে ক্লিক করার পর একটি পেজ খুলবে ‘upload eForms’ বলে।
‘upload eForms’-এ ক্লিক করার পর আপনাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে MCA অর্থাৎ Ministry of Corporate Affairs-এর ওয়েবসাইটে, যেখানে আপনাকে লগ ইন করতে হবে।
এরপর ‘MCA Services’ ট্যাবের মধ্যে IEPF-5 অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
এবার শেয়ারহোল্ডারের নাম, ফোলিও নম্বর, প্যান নম্বর, ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের নম্বর, ক্যান্সেল চেক ইত্যাদি তথ্য অনলাইন ফর্মে ভরতে হবে।
এরপর প্রয়োজনীয় নথিগুলি অ্যাটাচ করতে হবে। নথি অ্যাটাচ করার সময় দেখে নিতে হবে সেগুলি সঠিক কিনা।
এরপর আবেদনপত্র MCA পোর্টালে জমা করার পর আপনাকে একটি একনলেজমেন্ট দেওয়া হবে যার সাহায্যে আপনি ক্লেইমের স্টেটাস জানতে পারবেন।
এরপর যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল সেই কোম্পানির নোডাল অফিসারকে ফিজিক্যাল কপিগুলিও জমা করতে হবে। ক্লেইমের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর IEPF কর্তৃপক্ষ রিফান্ড প্রসেস শুরু করবে এবং আপনি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্পূর্ণ ডিভিডেন্ড পেয়ে যাবেন।





