Article By – সুনন্দা সেন

গত দুই মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় ইক্যুইটি মার্কেটে আবার বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভলিউমের নিরিখে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৫.৯৫%। যা তার আগের ত্রৈমাসিকে ৫.৮৮% থেকে সামান্য হলেও বেশি। প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা যাচ্ছিল যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উজ্জীবন স্মল ফিনান্স ব্যাক, ভোডাফোন আইডিয়া (VI) এবং JSW এনার্জির স্টকে নিজেদের হোল্ডিংয়ের পরিমান বাড়িয়েছে। এবার শোনা যাচ্ছে আগস্ট মাসের প্রথমার্ধে ভারতীয় বাজারের নেট বিক্রেতা হয়ে উঠেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে ইয়েন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় আগস্টে জুন মাসের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিলো তারা। জানা যাচ্ছে ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে ১৩,৪০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ এই পর্যন্ত ২২,১৩৪ কোটি টাকা ছিল। জিওজিৎ ফিনান্স্যিয়াল সার্ভিসেস (Geojit Financial Services)- এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ VK বিজয়কুমার বলেছেন, আগামীতে বাজার বৃদ্ধি পেতে থাকলে FPIs গুলি আরও বেশি বিক্রয় চাপ সৃষ্টি করবে। তথ্য বলছে ১-৯ আগস্টের মধ্যে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ইক্যুইটি থেকে ১৩,৪৩১ কোটি টাকা প্রত্যাহার করেছে।
অবশ্য এটি প্রথম নয় জুন মাসে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অব্যাহত সংস্কার ও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয়ের প্রত্যাশায় ৩২,৩৬৫ কোটি টাকা এবং জুন মাসে বাজারে তীক্ষ্ণ প্রত্যাবর্তনের কারণে ২৬,৫৬৫ কোটি প্রত্যাহার করেছিল বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। আবার মে মাসে ২৫,৫৮৬ কোটি এবং মরিশাসের সাথে ভারতের ট্যাক্স চুক্তিতে পরিবর্তন ও মার্কিন বন্ডের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগের জন্য এপ্রিল মাসে ৪,৭০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করেছিল FPIs। বিজয়কুমার বলেছেন, ব্যাংক অফ জাপান সুদের হার ০.২৫%- এ উন্নীত করার পর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার আশঙ্কায় ইয়েন ক্যারি ট্রেড বন্ধ করার ফলে সর্বশেষ বহিঃপ্রবাহ শুরু হয়।
সর্বশেষ প্রত্যাহারের খবর সামনে আসার পর মর্নিংস্টার ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ ইন্ডিয়ার অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর & ম্যানেজার হিমাংশু শ্রীবাস্তব বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাহার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ বিনিয়োগকারিরা তাদের ঝুঁকি কমাতে বাধ্য হয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে যে, FPIs- গুলি অন্যদিকে ডেট মার্কেটে কেবল আগস্টের এই পর্যন্ত ৬,২৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। যা ২০২৪ সালের এখনও পর্যন্ত ডেট মার্কেটের বিনিয়োগের পরিমাণকে ৯৭,২৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
[ মনে রাখবেন আমাদের উদ্দেশ্য হল আপনাদের কাছে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত সঠিক তথ্য বাংলা ভাষায় তুলে ধরা। এছাড়া অবশ্যই জানিয়ে রাখা ভালো যে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করা দরকার। Buzy With Info কখন কোনো স্টকে, বন্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। কেবল জ্ঞান বৃদ্ধি ও শিক্ষার জন্য বাজার সম্পর্কিত খবর প্রকাশ করা আমাদের লক্ষ্য।]





