Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। আর বিটকয়েনে বিক্রির চাপ বাড়ার প্রধান কারণ হলো বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি মার্কিন স্পট বিটকয়েন ETF থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা কমেছে। যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা পিছিয়ে যাওয়ায় ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং উচ্চ সুদের পরিবেশে বিটকয়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ করেছে। এছাড়া বিটকয়েন গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও মুভিং অ্যাভারেজের নীচে লেনদেন করায় অনেক স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারও লাভ তুলে নিতে বা ক্ষতি কমাতে বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে। সাথে বিটকয়েন এখনও গুরুত্বপূর্ণ ৫০ দিন ও ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নীচে লেনদেন করছে। যা দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
বিটকয়েন ২০২৬ সালে আবার সর্বোচ্চ দামে (All-Time High) পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন স্পট বিটকয়েন ETF-এ আবার শক্তিশালী অর্থপ্রবাহ শুরু হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। সেক্ষেত্রে বিটকয়েনের নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ETF থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়া, উচ্চ সুদের পরিবেশ বা নতুন বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলে পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হতে পারে।




