Article By – সুনন্দা সেন

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ১৪ নভেম্বর ঘোষণা করেছে যে তারা অ্যালফাবেটে ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছে, একই সাথে তারা অ্যাপেলে তাদের বিনিয়োগ কমিয়েছে। ওয়ারেন বাফেট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার ৬০ বছরের দায়িত্ব শেষ করার আগে কোম্পানিটি শেষবারের মতো তাদের ইক্যুইটি পোর্টফোলিও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে একটি নিয়ন্ত্রক ফাইলিংয়ে বলা হয়েছে যে কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের ২৮০ মিলিয়ন শেয়ার অংশীদারিত্ব কমিয়ে ২৩৮.২ মিলিয়ন শেয়ারে এনেছে। অর্থাৎ বাফেট এবং কর্কশায়ার তাদের ৯০ কোটিরও বেশি শেয়ারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিক্রি করে দিয়েছে।
তবে স্টক বিক্রির পরেও অ্যাপেলে ৬০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এখনও কোম্পানিটির ইক্যুইটি পোর্টফোলিওর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্টক হোল্ডিং। আর অ্যালফাবেটে বিনিয়োগের কারণ হিসাবে AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যপক চাহিদা এবং কর্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ক্লাউড বিভাগে দৃঢ় বিনিয়োগ গতি আনা। আর কোম্পানিটি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগে অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে অ্যামাজনে বার্কশায়ারের বিনিয়োগ শুরু করেছিলে, যা এখন ২.২ বিলিয়ন ডলার শেয়ারে পৌঁছেছে। কিন্তু বাফেটের বিনিয়োগ পদ্ধতি পৃথক, তাই অনুমান করা হচ্ছে যে অ্যালফাবেটে বিনিয়োগ টড কাম্বেস অথবা টেড ওয়েশলার (বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক)-এর দ্বারা করা হয়েছে।
অবশ্য সেপ্টেম্বরের বিনিয়োগের সীদ্ধান্তটি ছিল পৃথক। সেপ্টেম্বরে অ্যালফাবেটে ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব প্রকাশের পর কর্কশায়ার হ্যাথাওয়ে বাজারকে অবাক করে দেয়। সাথে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১০তম বৃহত্তম ইক্যুইটি পজিশনে পরিণত হয়। আর সেই ক্রয়টি বা পার্চেসের উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল, বাফেটের দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির বিষয়ে সতর্কতা। অবশ্য বাফেট আগেও স্বীকার করেছেন যে তিনি গুগলের প্রথম বিনিয়োগ অস্বীকার করেন। সাথে এও জানা যাচ্ছে যে দীর্ঘ ৬০ বছরের পর কর্কশায়ার থেকে অবসর গ্রহণ করছে বাফেটেই। তিনি একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘I’m going quiet’ অর্থাৎ আমার যাত্রা শেষ হতে চলেছে। হিসাব মতো তার শেষ বিনিয়োগ সেই গুলোই ছিল।




