বর্তমানে student life থেকেই অধিকাংশ ব্যাক্তিগত বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। বিশেষ করে ব্যাংকের FD (Fixed Deposit) – এ বছরের বছর স্বল্প সুদের বিনিময়ে টাকা ফেলে রাখার বদলে ইনভেস্ট করছেন নানা দিকে। তবে তাদের বিনিয়োগের বিষয় সঠিক জ্ঞান না থাকায় একজন বিনিয়োগকারী কেবল একটি কোম্পানি বা একটি সেক্টরেই বিনিয়োগ করে থাকেন। ফলে সেই সেক্টর loss এর সম্মুখীন হলে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হয়। অবশ্য সেক্টর গ্রো করলে লাভও হয় দ্বিগুণ।

তবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশেষ কিছু কারণের ফলে সব সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্র গুলি সমান থাকে না। বিশেষ করে শেয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার মাঝে একদিন পতন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি এক একটি কোম্পানির শেয়ার ট্রেডিং সেশনের প্রাথমিক সময় বিপুল রিটার্ন দিলেও দিনের শেষে লোকসানের সাথে লেনদেন শেষ করে থাকে অনেক সময়। আর ঠিক এই কারণে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, বিনিয়োগকারীদের শুধু শেয়ারে নয় index, government bonds, কোম্পানির বন্ড, gold, mutual funds এও বিনিয়োগ করা উচিৎ। এছাড়া stock market এর ক্ষেত্রেও যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সেক্টর নয়, ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের কোম্পানি গুলির স্টকে বিনিয়োগ করা উচিত। আর এই বিনিয়োগের পদ্ধতিকে বলা হয় diversification।

আপনাদের জানিয়ে রাখা ভালো যে আপনার বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই করতে সরকারি স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। যা আপনাদের ঝুঁকির প্রবণতাকে হ্রাস করবে, নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করবে, নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং সাথে ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় বেশি সুদ প্রদান করবে। এছাড়াও অনেক বিষয় জানা দরকার বিনিয়োগ করার আগে। তাই Government schemes সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন:
https://creator.tagmango.app/bwi-courses
ডাইভারসিফিকেশন বিষয়ে ভালোভাবে বুঝতে আসুন একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাক। ধরুন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার বাড়ছে, এমন অবস্থায় স্টক মার্কেটেও এর প্রভাবে মারাত্মকভাবে আঘাত আসতে পারে। আর আপনি যদি নিজের সম্পূর্ণ অর্থ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করেন তবে আশঙ্কা অনুযায়ী কিছু ঘটলে আপনার লোকসান হবে। তবে যদি শেয়ার বাজার এবং বন্ড মার্কেটের মধ্যে সমানভাবে বিনিয়োগ করেন, তাহলে আপনি ভারী ক্ষতি এড়াতে পারবেন। অর্থাৎ শেয়ার বাজারে ১০০% বিনিয়োগ করার থেকে ভালো শেয়ার বাজার এবং বন্ড মার্কেটে সমান ভাবে বা ৫০% করে বিনিয়োগ করা।

ইনভেস্টর এবং ফান্ড ম্যানেজার বেশিরভাগ সময় নিজ নিজ ইনভেস্টমেন্ট ডাইভার্সিফাই করে থাকেন বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাসে। দেখে নিন সেগুলি কী কী :
- স্টক মার্কেট (Stock Market) : পাবলিকলি ট্রেড করা কোম্পানি গুলির শেয়ার বা ইক্যুইটি।
- বন্ড (Bonds) : সকারি এবং বেসরকারি ডেট ইনস্ট্রুমেন্টস থেকে স্থায়ী আয়।
- রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড প্রোপার্টিস (Real estate and properties) : এক টুকরো জমি, বিল্ডিং, প্রাকৃতিক সম্পদ, পশু সম্পদ অর্থাৎ livestock, জল এবং খনিজ সম্পদ।
- এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF) : ইন্ডেক্স, কমোডিটি, সেক্টর এবং এক্সচেঞ্জে লিস্টেড সমস্ত সিকিউরিটি।
- কমোডিটিশ (Commodities) : প্রডাক্ট বা পরিষেবা অর্থাৎ Services তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
- নগদ (Cash) : ট্রেজারি বিল, জমার শংসাপত্র (CD) এবং স্বল্পমেয়াদী, কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বলতে গেলে, Diversification হলো একটি risk management technique। যা ভিন্ন ভিন্ন financial instrument, industry এবং অন্যান্য বিনিয়োগ categories এ বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ঝুঁকির সম্ভাবনা অনেকটা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে উচ্চতর এবং long term এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ আয় বাড়ানোর সুযোগ দেয়। যে কারণে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন Diversification হয়তো ক্ষতি না হওয়ার গ্যারেন্টি দেয় না, তবে ঝুঁকি বিপুল পরিমাণে হ্রাস করে। এর বিশেষ গুরুত্বপূর্ন দিক হলো :
- একজন বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ পোর্টফোলিও diversified হলে বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়ের ভিন্ন ভিন্ন দিক যেমন খুলে যায় তেমন আবার ঝুঁকিও কমে আসে।
- বিনিয়োগে diversification থাকলে long term বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে inflation এর কারণে আর্থিক ক্ষতি অনেকটা কম হয়।
যে কারণে বিনিয়োগের আগে ঠিক করে নেওয়া উচিৎ আপনার আয়ের কতটা অংশ কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করবেন। অর্থাৎ মোট বিনিয়োগের কত শতাংশ ধার্য্য করবেন শেয়ার বাজারের জন্যে, mutual fund এবং অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জন্যে। এর ফলে কোনো সেক্টর খারাপ পারফরম্যান্স করলে অন্য সেক্টর ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে ভালো রিটার্ন দেবে। এই কারণেই বিনিয়োগে diversification আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।



