শেয়ার বাজার থেকে শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিভিডেন্ড থেকেও মুনাফা অর্জন করা যায়। যাঁরা নিশ্চিত রিটার্ন এবং লিক্যুইডিটি চান তাঁদের জন্য ডিভিডেন্ড অতিরিক্ত আয়ের একটি উৎস। ওয়ারেন বাফেট একবার বলেছিলেন, Dividends are the best friend of the long-term investors অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত বন্ধু হল ডিভিডেন্ড অর্থাৎ লভ্যাংশ।
আপনি যদি সেইরকমই একজন বিনিয়োগকারী হন তাহলে ডিভিডেন্ডের ওপর আপনার লক্ষ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। যেসমস্ত কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল করতে চায় তাদের লভ্যাংশ প্রদান, ঋণের পরিমাণ সীমিত রাখা এবং মুনাফা বৃদ্ধি – এই তিনটি জিনিসের মধ্যে সমান ভারসাম্য রেখে চলতে হয়। এছাড়াও আপনি ডিভিডেন্ডের তুলনায় কী দামে শেয়ারটি কিনছেন সেটিও সমানভাবে দেখা প্রয়োজন।
ডিভিডেন্ড স্টক বাছার আগে কী কী দেখা দরকার?
Free Cash Flow : দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির টিকে থাকতে হলে free cash flow একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Sales revenue থেকে capital expenditure অর্থাৎ প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কেনার খরচ বাদ দিলে free cash flow পাওয়া যায়। Free cash flow ছাড়া কোম্পানি ডিভিডেন্ড প্রদান করতে পারে না, শেয়ার বাইব্যাকের প্রস্তাব আনতে পারে না, এমনকি ঋণ পরিশোধ বা ব্যবসার উন্নতিতে পুনর্বিনিয়োগ করতে পারে না। যেসমস্ত কোম্পানির ধারাবাহিক free cash flow থাকে তারা মূলত বেশি স্টেবল হয়। তাই ডিভিডেন্ড স্টক কেনার আগে কোম্পানির free cash flow অবশ্যই দেখুন।
Dividend Yield Ratio : কোম্পানির ডিভিডেন্ড ইল্ড দেখায় যে, শেয়ারের দামের কতটুকু আপনি বছরে ডিভিডেন্ড হিসেবে পাচ্ছেন। প্রতি শেয়ারের বার্ষিক ডিভিডেন্ডকে শেয়ারের বর্তমান দাম দিয়ে ভাগ করলে ডিভিডেন্ড ইল্ড পাওয়া যায়। যেমন, সম্প্রতি, Vedanta Limited তাদের তৃতীয় interim-এ 2000% ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ ২০ টাকা প্রতি শেয়ার।
বর্তমান শেয়ার মূল্য ৪৬০ টাকা অর্থাৎ এই interim-এ ডিভিডেন্ড ইল্ড হচ্ছে 4.34%। ডিভিডেন্ড ইল্ড যেটা আপনি কোম্পানির ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট দেখতে পাবেন, সেটা অতীতের ডিভিডেন্ড, যা ভবিষ্যতের গ্যারেন্টি নয়। সুতরাং কোম্পানির মুনাফা বাড়ছে কিনা দেখা জরুরি কারণ আয় বাড়লে তবেই নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিতে পারবে কোম্পানি।
Dividend Payout Ratio : এই রেশিওটি দেখায় যে, কোম্পানির আয়ের কতটুকু শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ডিভিডেন্ড হিসেবে দেওয়া হয়। বার্ষিক ডিভিডেন্ডের পরিমাণকে বার্ষিক নেট প্রফিট দিয়ে ভাগ করলে dividend payout ratio পাওয়া যায়। যদি ডিভিডেন্ড পেআউট 10% – 35%-এর মধ্যে হয় তাহলে বুঝতে হবে কোম্পানি তার আয়ের বেশিরভাগটাই পুনর্বিনিয়োগ করছে, এবং কোম্পানির বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কোম্পানির আয়। 35% – 55%-এর মধ্যে রেশিও থাকলে বোঝা যায় কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেওয়া এবং ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রেখেছে।
যেমন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৪ সালে Coal India Ltd.-এর dividend payout ratio ছিল 42%, ২০২৩-এ ছিল 53%, এবং ২০২২-এ ছিল 60%। এইরকম ধারাবাহিকভাবে ডিভিডেন্ড পেআউট কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে যে, কোম্পানিটি নতুন প্রোজেক্টে বেশি অর্থ ব্যয় করছে, অর্থাৎ কোম্পানির ব্যবসায়িক বৃদ্ধি হচ্ছে।
Dividend Coverage Ratio : এটি পেআউট রেশিওর একেবারে উল্টো। বার্ষিক নেট প্রফিটকে বার্ষিক লভ্যাংশ দিয়ে ভাগ করলে এই রেশিও পাওয়া যায়। যে-কোনো কোম্পানির ডিভিডেন্ড সম্পর্কে জানতে পেআউট ও কভারেজ, দুটি রেশিও-ই দেখা প্রয়োজন। ডিভিডেন্ড কভারেজ রেশিও দেখায় যে, কোম্পানি নিজের নেট প্রফিট ব্যবহার করে বছরে কতবার শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রদান করতে পারবে।
এই রেশিওগুলির পাশাপাশি অবশ্যই কোম্পানির debt to equity ratio দেখুন, যাতে বোঝা যায় কোম্পানি লভ্যাংশ দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ঋণের বোঝা নিচ্ছে কি না। Debt to equity ratio বেশি হলে সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ নেতিবাচক সংকেত হতে পারে।





