Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর (FY27)-এ মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ কর ব্যবস্থা কেমন হতে চলেছে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। সাম্প্রতিক ইউনিয়ন বাজেট ও আগের কর পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন স্পষ্ট হয়েছে যে ফান্ডের ধরণ অনুযায়ী করের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগের আগে ট্যাক্স -রুলস বুঝে নেওয়া এখন আগের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির (SEBI: Securities and Exchange Board of India) নিয়ম অনুযায়ী ফান্ডের শ্রেণিবিভাগ কার্যকর হয় এবং সেই শ্রেণীর উপর নির্ভর করে নতুন কর কাঠামো –
- ইক্যুইটির মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এক বছরের আগে ফান্ড বিক্রি করলে শর্ট-টার্ম ক্যাপিটাল গেইনে প্রায় ২০% কর দিতে হবে। আর এক বছরের বেশি হোল্ড রাখলে লং-টার্ম গেইনে ১২.৫% কর লাগবে। যদিও বছরে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রফিটে কর ছাড় থাকবে।
- ডেট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। ২০২৩ সালের এপ্রিলের পরে কেনা বেশিরভাগ ডেট ফান্ডে আর দীর্ঘমেয়াদি ইনডেপ্রেশন সুবিধা নেই। ফলে লাভ পুরোটা বিনিয়োগকারী ইনকাম-ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী করযোগ্য হবে।
- হাইব্রিড বা মিক্সড ফান্ডের ক্ষেত্রে কর নির্ভর করবে ইক্যুইটি এক্সপোজারের ওপর। যদি ইক্যুইটির অংশ বেশি হলে সেটি ইক্যুইটি ফান্ডের মতো কর লাগতে পারে। আর কম হলে নন-ইক্যুইটি হিসেবে স্ল্যাব-রেটে কর লাগতে পারে। তাই ফান্ডের ক্যাটাগরি চেক রা অত্যন্ত জরুরি।
ডিভিডেন্ড আয়ের ক্ষেত্রেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আগের মতোই কড়া নিয়ম থাকবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে পাওয়া ডিভিডেন্ড এখন পুরোটা ব্যক্তিগত আয় হিসেবে ধরা হয় এবং ইনকাম-ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়। নির্দিষ্ট সীমা ছড়িয়ে গেলে AMC-রা TDS কেটে নিতে পারে। এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত করে Ministry of Finance। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে, যেমন—
- প্রথমত, ইকুইটি ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে এখনও তুলনামূলক ট্যাক্স-এফিসিয়েন্ট।
- দ্বিতীয়ত, নতুন ডেট ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে।
- তৃতীয়ত, ডিভিডেন্ড অপশনের বদলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রোথ অপশন নেওয়া ট্যাক্স-প্ল্যানিংয়ের জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।




