Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ইক্যুইটি ক্যাপিটাল মার্কেটে অগাস্ট মাসে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন গতি। চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ইক্যুইটি ডিল চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সরকারের LIC-এর প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেস (Manipal Health Enterprises)-এর প্রায় ৯৫৮ মিলিয়ন ডলারের IPO, একাধিক ব্লক ডিল এবং ইন্সটিইটিউশনাল প্লেসমেন্টও এই বিশাল অঙ্ক বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অগাস্ট মাসে ভারতের ইক্যুইটি ক্যাপিটাল মার্কেটের ইক্যুইটি বাজারের লাভ এখনও পর্যন্ত সেরা মাস হওয়ার পথে এগোচ্ছে। বিশেষ করে দেশের স্থানীয় মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা পর্যাপ্ত তারল্য নতুন শেয়ারের চাহিদা শক্তিশালী করেছে। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় বাজারে আবার সক্রিয় হচ্ছেন। অগাস্টে FPIs প্রায় ২৩,৫৪৪ কোটি টাকা ভারতীয় ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই উত্থান ঘটছে এমন সময়ে যখন ভারতের সেকেন্ডারি স্টক মার্কেট খুব একটা শক্তিশালী নয়। নিফটি ৫০-এর পারফরম্যান্সও দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন IPO-এর ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। অগাস্টে বাজারে আত্মপ্রকাশ করা ২৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চারটি তাদের অনুমণিত IPO দামের নিচে লেনদেন করছে। অর্থাৎ নতুন শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যথেষ্ট বেশি।
অগাস্টে IPO বাজারও গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় সময় পার করছে। প্রায় ২০টি কোম্পানি মিলিয়ে ২১,০০০ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করেছে। শক্তিশালী তালিকাভুক্তি প্রাপ্ত লাভ এবং বাজারে নতুন ইস্যুর জন্য তৈরি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এই গতি ধরে রাখতে সাহায্য করছে। তবে এই প্রবল IPO-রাশির একটি ঝুঁকিও রয়েছে। বিপুল পরিমাণ টাকা প্রাথমিক বাজারে চলে যাওয়ায় সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য উপলব্ধ তারল্য কমতে পারে। এর পাশাপাশি উচ্চ ক্রুড অয়েল প্রাইস, গ্লোবাল ইয়েল্ড এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা ভারতীয় ইক্যুইটির উপর চাপ তৈরি করতে পারে।




