চলতি সময়ে আপনি EV বা Electric Vehicles নিয়ে প্রচুর শোরগোল শুনে থাকবেন। এবং আপনি জেনে অবাক হবেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত নিজের মোট যানবাহনের 30% electrify অর্থাৎ বিদ্যুতায়ন করার লক্ষ্যে রয়েছে। এমনকি ভারত ‘Make in India’ উদ্যোগের কারণে EV-র 100% দেশীয় উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে চলছে। এর ফলে মনে করা হচ্ছে ভারতের automotive ক্ষেত্র নতুন গতি পাবে। ভারতের GDP-র 7.1% জুড়ে রয়েছে এই ক্ষেত্রটি। গত ১ দশকে electric vehicle বা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন mainstream market-এ প্রবেশ করেছে। ফুয়েল ইঞ্জিনের বদলে ব্যাটারি ও electric motor চালিত হওয়ায়, EV অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে একটি সবুজ সমাধান। যেহেতু পরিবেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে EV-র তাই বৈশ্বিক সরকারও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, যেমন চার্জিং স্টেশন বা energy transition-এর মতো বিষয়ে অর্থসংস্থান বাড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি Tesla, Nissan ইত্যাদির মতো একাধিক বিদেশি কোম্পানি ভারতে EV উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভারতে ব্যাটারি, মোটর বা চার্জিং যন্ত্রপাতি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। ফলে সরকারের নতুন পলিসির সমর্থন ও দেশীয় পরিকাঠামোয় EV উৎপাদনের খরচ কম হওয়ায়, EV sectorটি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ও আশাপ্রদ হয়ে উঠেছে।
কেন EV stock-এর চাহিদা বেশি?
- সরকারের সমর্থন: সরকারের সাবসিডি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ট্যাক্স ইনসেনটিভের মতো বেশ কিছু পরিকল্পনা বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের উন্নতিতে সাহায্য করছে। ফলে EV কোম্পানিগুলি এই রকমের সরকারি প্রকল্পের কারণে উন্নত হচ্ছে।
- গ্রোয়িং মার্কেট: ভারতের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের সংখ্যা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ— ইত্যাদি একাধিক কারণের জন্য electric vehicle-এর চাহিদা বাড়ছে, যার কারণে বড় বড় EV কোম্পানিগুলির কাছে বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
- সাশ্রয়ী খরচ: ভারতের দুর্দান্ত উৎপাদন ভিত্তি ও সাশ্রয়ী শ্রমব্যবস্থার কারণে দেশীয় EV কোম্পানিগুলি বৈদেশিক প্রতিযোগিতার তুলনায় অনেকখানি এগিয়ে।
- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: ব্যাটারি প্রযুক্তি, চার্জিং ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের আধুনিক নকশা ইত্যাদি প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের জন্য EV sector বা EV stock-এর চাহিদা বাড়ছে।
- ডাইভারসিফিকেশন: EV স্টকে বিনিয়োগের ফলে পোর্টফোলিও diversification-এর সুযোগ তৈরি হয় কারণ প্রথমত সেক্টরটি তুলনায় নতুন এবং দ্বিতীয়ত চিরাচরিত automobile stock-এর থেকে আলাদা।
Ev sector-এর মধ্যে কোন ক্ষেত্রগুলি অন্তর্গত?
EV sector কেবলমাত্র গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ক্ষেত্রের উপাদান বা কম্পোনেন্টগুলি হল–
(১) Auto manufacturer: Automobile-এর নকশা প্রস্তুত, উৎপাদন, ও ডিস্ট্রিবিউশনের কাজে নিযুক্ত থাকে auto manufacturer।
(২) Battery manufacturer: EV বা electronic Vehicle-এর ক্ষেত্রে ব্যাটারি একটি প্রয়োজনীয় কম্পোনেন্ট। ব্যাটারি প্রযুক্তি উন্নয়ন, এনার্জি ডেনসিটি বাড়ানো, দক্ষতা বাড়ানো ইত্যাদির জন্য ব্যাটারি প্রস্তুতকারকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
(৩) Auto parts and EV software: এরা vehicle assembly বা একত্রীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের জোগান দেয়। EV-র ক্ষেত্রে যেসব কোম্পানি EV software-এ বিশেষজ্ঞ তারা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চিরাচরিত যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কোম্পানি এবং software কোম্পানি– দুইই automotive industry-র বিকাশের জন্য অবদান রাখছে।
(৪) Charging infrastructure: EV-র বিস্তারের জন্য চার্জিং পরিকাঠামো মজবুত হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘপথের EV যাত্রার জন্য শহরাঞ্চলে EV charging তৈরি একান্ত দরকার। চার্জিং পরিষেবার প্রসার EV উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে।
এবার দেখে নেওয়া যাক কয়েকটি শীর্ষ EV stock-এর তালিকা। আমরা মার্কেট ক্যাপের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করেছি।
10 EV stocks based on market Cap (as on 15th Oct, 2024)
| Name | Sub sector | Market Cap | PE ratio |
| Mahindra and Mahindra Ltd. | Four wheelers | 3,97,109 Cr. | 35.96 |
| Tata Motors Ltd. | Four wheelers | 3,41,899 Cr. | 10.13 |
| Bharat Electronics | EV battery | 2,09,681 Cr. | 49.46 |
| Tata power | EV battery | 1,48,743 Cr. | 40.27 |
| Hero Motocorp | Two wheelers | 1,09,161 Cr. | 26.75 |
| Exide Industries | Batteries | 43,516 Cr. | 49.75 |
| Himadri Speciality Chemical Ltd. | Commodity Chemicals | 31,103 Cr. | 69.55 |
| Amara Raja Energy and Mobility Ltd. | Electrical equipment | 25,587 Cr. | 26.29 |
| JBM Auto Ltd. | Auto components | 20,790 Cr. | 114.17 |
| Olectra Greentech | Electrical equipment, Largest electrical bus manufacturer | 13,822 Cr. | 167.06 |
পরিশেষে বলা যায়, EV sector ভারতে এখন নবগত একটি sector। তবে এই ক্ষেত্রটি ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের Ev sectorটি ভবিষ্যতে দারুণ সুযোগ আনতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি, কোম্পানির গুণগত মান, প্রযুক্তিগত দিক থেকে কতটা এগিয়ে কোম্পানিটি ইত্যাদি অবশ্যই দেখতে হবে। সুতরাৎ বিনিয়োগের আগে প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করেই বিনিয়োগ করবেন।
[ মনে রাখবেন আমাদের উদ্দেশ্য হল আপনাদের কাছে শেয়ার বাজার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত সঠিক তথ্য বাংলা ভাষায় তুলে ধরা। এছাড়া অবশ্যই জানিয়ে রাখা ভালো যে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করা দরকার। Buzy With Info কখন কোনো স্টকে, বন্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। কেবল জ্ঞান বৃদ্ধি ও শিক্ষার জন্য বাজার সম্পর্কিত খবর প্রকাশ করা আমাদের লক্ষ্য।]




