Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট (Flipkart) আবার ভারতে নিজেদের নিবন্ধন স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত থাকার পর এবার সংস্থাটি আবার ভারতে ফিরে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ভারতে সম্ভাব্য IPO বা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনার কারণেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফ্লিপকার্টের মূল হোল্ডিং কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে সিঙ্গাপুরে। তবে কোম্পানির প্রধান ব্যবসা এবং অধিকাংশ গ্রাহক রয়েছে ভারতে। তাই ভারতীয় শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির আগে সংস্থাটি আবার ভারতে ডোমিসাইল বা আইনি নিবন্ধন স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ভারতীয় স্টার্টআপই অতীতে বিদেশে নিবন্ধিত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক কর কাঠামোর সুবিধা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। ভারতের শেয়ার বাজার দ্রুত বাড়ছে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই কারণেই অনেক স্টার্টআপ আবার ভারতে ফিরে এসে আইপিও আনার পরিকল্পনা করছে।
ফ্লিপকার্টের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই ভারতের ই-কমার্স বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো Amazon। ভারতের অনলাইন খুচরো বাজারে এই দুই সংস্থার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফ্লিপকার্টের বড় অংশীদার হলো মার্কিন খুচরো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান Walmart। ২০১৮ সালে ওয়ালমার্ট প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ফ্লিপকার্টের বড় অংশীদারি কিনে নেয়। সেই সময় এটি ছিল ভারতের স্টার্টআপ ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ফ্লিপকার্ট সত্যিই ভারতে IPO আনে, তাহলে তা দেশের প্রযুক্তি ও ই-কমার্স খাতে অন্যতম বড় শেয়ার বাজার তালিকাভুক্তি হতে পারে। এতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও সরাসরি এই বড় ই-কমার্স সংস্থায় বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ‘রিভার্স ফ্লিপিং’ বা বিদেশ থেকে আবার ভারতে নিবন্ধন স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ছে। কারণ ভারতীয় বাজার এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতি হিসেবে উঠে এসেছে।




