Article By – সুনন্দা সেন

আগস্টের প্রথমার্ধে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের FPIs-এর মোট ১৬,৬২১ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। তবে শুধু টাকার পরিমাণ নয়, কোন খাতে টাকা ঢুকছে এবং কোন খাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটাই এখন বাজারের বড় ইঙ্গিত। ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬,৫৩৫ কোটি টাকা FPI বিনিয়োগ এসেছে। এরপর অটোমোবাইল ৪,৪০৫ কোটি টাকা, কনজিউমার সার্ভিসেস ৩,৩৯৮ কোটি টাকা, হেলথকেয়ার ২,৯১০ কোটি টাকা এবং IT ২,৫৩০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পেয়েছে। অর্থাৎ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত এমন ব্যবসায়, যেখানে দেশের মানুষের খরচ, চাহিদা এবং কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
বিশেষ করে কনজিউমার সার্ভিসেসের ক্ষেত্রে ছবিটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আগের AUC (Assets Under Custody)-এর তুলনায় এই খাতে FPI বিনিয়োগ বেড়েছে ১.২৩%, যা নজর রাখা বা দৃষ্টি প্রদান করা খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, এটি টানা তৃতীয় পর্যায়। যেখানে ভোক্তা-ভিত্তিক খাত (Consumer Oriented Sectors) AUC-ভিত্তিক FPI ইনফ্লোতে এগিয়ে রয়েছে। যার ফলে এটি সাময়িক লেনদেন নয়; বরং ভারতের ভোগচালিত প্রবৃদ্ধির গল্প (Consumption driven growth Story)-তে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আস্থার ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যদিকে, টেলিকম খাতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বড় FPI আউটফ্লো প্রায় ৩,৩২২ কোটি টাকার। ক্যাপিটাল গুডস থেকে বহিঃপ্রকাশিত ১,৫৫৬ কোটি টাকা, পাওয়া থেকে ১,১৬৪ কোটি টাকা এবং রিয়েলিটি থেকে ১,০১৪ কোটি টাকা। AUC-এর তুলনাতেও টেলিকমে বিনিয়োগ কমেছে ০.৮৯%, আর রিয়ালিটিতে কমেছে ০.৮২%। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের গ্রোথ স্টোরি থেকে সরে যাচ্ছেন। বরং তাঁরা প্রবৃদ্ধির মধ্যে বেশি সিলেক্টিভ হচ্ছেন। ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ সেক্টরের পরিবর্তে তাঁরা এখন এমন ক্ষেত্র বেছে নিচ্ছেন যেখানে চাহিদার দৃশ্যমান (demand visibility), লিক্যুইডিটি এবং আয়ের দৃশ্যমানতা বেশি বলে মনে হচ্ছে।




