Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুধু শেয়ার বাজারই নয়, জোরালো উত্থান দেখা গেল সোনা ও রুপোর বাজারেও। সাম্প্রতিক কয়েক সেশনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার মিলিয়ে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৬% থেকে ৭%। আর রুপোর দাম লাফিয়ে বেড়েছে প্রায় ১০% পর্যন্ত। এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা জন্ম দিয়েছে। সকলের মনের প্রশ্ন – এই র্যালি কি টেকসই বা দীর্ঘমেয়াদের নাকি সাময়িক? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, India–US বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক মনোভাবই মূলত কমোডিটি বাজারে এই উত্থানের অন্যতম কারণ।
চুক্তির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে ডলার ও সুদের হারের প্রত্যাশায়। ডলার সূচক কিছুটা দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সুদের হার নিয়ে সতর্ক অবস্থান এবং ভবিষ্যতে হার কমার সম্ভাবনাও মূল্যবান ধাতুগুলির চাহিদা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রুপোর ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের চাহিদা—যেমন সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার এই ধাতুর দামের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ভারতীয় বাজারে বিয়ের মরশুম ও বিনিয়োগের চাহিদাও সোনা–রুপোর দামে সমর্থন জুগিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের অস্থিরতার পরে অনেক বিনিয়োগকারী পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য বাড়াতে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এখন বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত? বিশ্লেষকদের মতে, যারা আগেই সোনা বা রুপোতে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের জন্য এটি আংশিক মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ হতে পারে। কারণ স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা বা সংশোধন অস্বাভাবিক নয়।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও একটি ভালো হেজ বা সুরক্ষা মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে। রুপোর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ এর দাম সাধারণত বেশি অস্থির হয়। তাই এখন আবেগে ভেসে না গিয়ে বাজারের দিকনির্দেশ, ডলার ও সুদের হারের গতিবিধির দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভবিষ্যতের পথ নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর।




