Article By – সুনন্দা সেন

আজ শেয়ারবাজারে ব্যাংকিং খাতে দুর্বল প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য ব্যাংক নিফটি সূচক পতনের মুখে পড়ে প্রায় ১.৪% কমেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বা FII ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহার বা আউটফ্লোর কারণেই এই চাপ তৈরি হয়েছে। সাথে বাজারে দেখা যাচ্ছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ধীরে ধীরে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এর পেছনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মার্কিন বন্ডের উচ্চ ইয়িল্ড এবং উন্নত বাজারে তুলনামূলক নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুযোগকে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আর ঠিক এই কারণে ভারতীয় ব্যাংকিং শেয়ারগুলোর উপর বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংক নিফটি সূচকে। এই পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাবলিক সেক্টর ব্যাংক বা PSU ব্যাংকগুলো। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে PSU ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি অস্থির থাকে এবং বিদেশী ফান্ডের বিক্রির চাপ এদের উপর বেশি পড়ে। যা বাজার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এসব ব্যাংকের শেয়ারদর সেই কারণেই শেয়ারদর একাধিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি বাজারে সামগ্রিকভাবে সতর্ক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। কিছু ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ফলাফল নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যা বিক্রির চাপ আরও বাড়াচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ অবস্থানে যেতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যতক্ষণ না বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা কমে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়, ততক্ষণ ব্যাংক নিফটিতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ব্যাংকিং খাতের মৌলিকভিত্তি এখনও শক্তিশালী বলে তারা মনে করছেন।




