Article By – সুনন্দা সেন

শক্তিশালী অর্থনৈতিক মৌলভিত্তি, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রকল্পের জোরে ২০২৬ সালে ভারতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষকেরা। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারত এখনো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বড় ভোক্তা বাজার এবং স্থিতিশীল ম্যাক্রো অর্থনৈতিক পরিবেশ FDI বৃদ্ধির প্রধান চালক।
সরকারের ধারাবাহিক সংস্কার, যেমন উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, কর কাঠামোর সরলীকরণ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সব মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল হয়েছে। ২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং, সেমিকন্ডাক্টর, রিনিউএবল এনার্জি, ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV), ডেটা সেন্টার, এবং অবকাঠামো খাতে বড় ‘বিগ-টিকিট’ বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যেই একাধিক বহুজাতিক সংস্থা ভারতে উৎপাদন ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়ক হবে। এছাড়া, ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে ভারতের দিকে আরও আকৃষ্ট করছে।
এদিকে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনে অনেক সংস্থাই এখন ভারতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একই সঙ্গে, ভারতের উন্নত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদিও স্বল্পমেয়াদে বৈশ্বিক সুদের হার ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবুও ২০২৬ সালে ভারতের FDI প্রবাহের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। শক্তিশালী নীতিগত সমর্থন ও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে ভারত বিশ্ব মানচিত্রে একটি প্রধান বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবেই নিজের অবস্থান আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




