Article By – সুনন্দা সেন

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI দ্বারা প্রকাশিত অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল, ২০২৫ শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Foreign Exchange Reserve) ১০.৮৭২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৭৬.২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা টানা পঞ্চম সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির আগে প্রায় চার মাস ধরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঘটেছিল। অবশ্য বৃদ্ধির পরও সম্প্রতি এটি ১১ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আর এই পতন শুরু হয় সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ ৭০৪.৮৯ বিলিয়ন ডলারের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্পর্শ করার পর পতন শুরু হয়।
রিজার্ভের এই পতন সম্ভবত রিজার্ভ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে হয়েছে। যার লক্ষ্য ছিল টাকার তীব্র অবমূল্যায়ন রোধ করা। ভারতীয় রূপির দাম এখন মার্কিন ডলারের বিপরীতে দ্বিতীয় সর্বনিম্নে রয়েছে। যখন মার্কিন ডলারেরও পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ বা FCA, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মূল উপাদান। তা ৫৭৪.০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। RBI-এর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে গোল্ড রিজার্ভের পরিমাণ ৭৯.৩৬০ বিলিয়ন ডলার। আর অনুমান অনুসারে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আনুমানিক ১০-১১ মাসের আমদানির জন্য যথেষ্ট।
২০২৩ সালে ভারত তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন যোগ করেছিলো। যা ২০২২ সালের ৭১ বিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান হ্রাসের বিপরীতে। ২০২৪ সালে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে একটু বেশি বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হল একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দ্বারা হোল্ড করা সম্পদ। মূলত রিজার্ভে মার্কিন মুদ্রার মতো ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং পাউন্ড সস্টালিংয়ের ছোট অংশ থাকে। রূপীর তীব্র অবমূল্যায়ন রোধ করতে RBI প্রায়শই লিক্যুইডিটি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে। যার মধ্যে ডলার বিক্রি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। RBI কৌশলগত ভাবে রূপি শক্তিশালী হলে ডলার কেনে এবং দুর্বল হলে বিক্রি করে।




