Article By – সুনন্দা সেন

চলতি সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধসের সাক্ষী হল বিনিয়োগকারীরা। টানা বিক্রির চাপে Sensex ও Nifty বড়সড় পতন ঘটায়, যার ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা কমে গেছে। এই পতন বাজারে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং খুচরো থেকে প্রাতিষ্ঠানিক—সব ধরনের বিনিয়োগকারীর মধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চাপের মুখে থাকা বাজারে BSE Sensex প্রায় ২,৫০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায়, অন্যদিকে Nifty ৫০ সূচক প্রায় ৭৫০ পয়েন্টের বেশি পতন নথিভুক্ত করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধনের ওপর, যা এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন সাম্প্রতিক মাসগুলির মধ্যে অন্যতম বড় সাপ্তাহিক ক্ষতি। এই ধসের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে ব্যাপক হারে টাকা তুলে নিয়েছেন। শুধু এই সপ্তাহেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাজারের উপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে মার্কিন বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান উদীয়মান বাজারগুলিকে দুর্বল করেছে। এর প্রভাব ভারতীয় রুপি এবং শেয়ারবাজার—উভয়ের ওপরই পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারের বিক্রি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্পোরেট আয়ের দিক থেকেও উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে IT খাতে ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই সেক্টরের শেয়ারগুলিতে বড়সড় পতন দেখা গেছে। পাশাপাশি মেটাল, রিয়েলটি এবং ফিনান্সিয়াল শেয়ারগুলিও চাপের মুখে পড়ে। ব্যাংকিং স্টক দুর্বল হওয়ায় সূচকের পতন আরও গভীর হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপের শেয়ার। এই সেগমেন্টে অতিরিক্ত মূল্যায়নের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল, ফলে বিক্রির চাপ এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বহু খুচরো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তারা এটাও বলছেন, ভারতের অর্থনৈতিক ভিত এখনও তুলনামূলকভাবে মজবুত। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য বজায় রাখা, অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য মাথায় রেখে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।




