Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ার বাজারে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে বড়সড় চাপের ছবি সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এই পর্যন্ত দেশের শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিদেশী বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। এর ফলে ২০২৩ সালের পর থেকে ভারতে যে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল, তার প্রায় ৫৫% উধাও হয়ে গেছে বা FPI/FII প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থপ্রবাহের উল্টো পথে হাঁটার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আর এসব কারণগুলির মধ্যে অন্যতম কারণ হলো –
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদের দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে বা উচ্চ স্তরে থাকা।
- যুদ্ধ ও একাধিক প্রাকৃতিক রাজনৈতিক কারণে অর্থাৎ ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
- তুলনামূলকভাবে কম দামে উপলব্ধ অন্যান্য উদীয়মান বাজার (Emerging Market)- এ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি।
অবশ্য এই ভাবে বিদেশী বিনিয়োগ আউটফ্লোর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের GDP প্রবৃদ্ধি, কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের গতি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে সমর্থন করছে। এছাড়া দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা DII-এর ধারাবাহিক ভাবে বিদেশী বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়ার ধাক্কা অনেকটাই সামাল দিয়েছে। ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এখনও দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই পর্যন্ত বিদেশী বিনিয়োগ বা FDI থেকে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে যাওয়া অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়, তবে এটিকে ভারতের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, বিদেশী তহবিল সাধারণত বৈশ্বিক সুদের হার, ডলারের শক্তি, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের বাজারমূল্য বা ভ্যালুয়েশন বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তই এই ধরনের অর্থপ্রবাহ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হওয়া স্বাভাবিক। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হল, শক্তিশালী মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি এবং নিয়মিত SIP-এর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া।




