Article By – সুনন্দা সেন

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অধীনে থাকা জিও প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য ৩৫,০০০ কোটি টাকার মূল্যের IPO নিয়ে বাজারে ব্যপক আলোচনা চলছে। অনেকেই আশা করছেন, এই IPO হলে রিলায়েন্সের শেয়ার বড় ধরনের ভ্যালু আনলোকিং হবে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে পরিস্থিতি এতটা সহজ নাও হতে পারে এবং রিলায়েন্স বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি তাৎক্ষণিক জ্যাকপট নাও হতে পারে। আর এমন ধারনা বহন করার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আর সেগুলি হল–
- সবচেয়ে বড় কারণ হলো হোল্ডিং কোম্পানি ডিসকাউন্ট। সাধারণত শেয়ারবাজারে একটি বড় কোম্পানির অধীনে থাকা সাবসিডিয়ারির পুরোমূল্য মূল কোম্পানির শেয়ারে একেবারে প্রতিফলিত হয় না। ফলে জিও আলাদাভাবে উচ্চ মূল্যায়ন পেলেও সেই পুরো সুবিধা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির শেয়ারদরে সরাসরি দেখা নাও যেতে পারে।
- আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বাজারের আগাম প্রত্যাশা। জিওর IPO নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে এবং বিনিয়োগকারীরা অনেক আগেই এর সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধিকে রিলায়েন্সের শেয়ার দামে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই IPO আসলেও নতুন করে বড় ধরনের ইতিবাচক চমক নাও থকতে পারে।
- আর তৃতীয় কারণ হলো মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন নিয়ে অনিশ্চয়তা। বিভিন্ন ব্রোকারেজ ও বিশ্লেষক জিওর সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছেন। যদি IPO-এর মূল্য বাজারের অত্যন্ত আশাবাদী অনুমানের তুলনায় কম হয়, তাহলে ভ্যালু আনলোকিং প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হতে পারে।
তবে এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। জিও আলাদাভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে এর টেলিকম, ডিজিটাল পরিষেবা, ক্লাউড ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ব্যবসার প্রকৃত বাজার মূল্য আরও স্পষ্ঠভাবে বোঝা যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি রিলায়েন্সের সামগ্রিক ব্যবসার স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রকৃত প্রভাব ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদে দেখা যেতে পারে।




