Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের IPO বাজারে ফের গতি ফিরেছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে মোট ৬০টি IPO-র মাধ্যমে ৭২,১৬৫ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই ও আগস্ট মাসেই ৩৩টি IPO থেকে এসেছে ৪৯,৫৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট IPO থেকে তহবিল সংগ্রহ প্রায় ৬৯% এসেছে এই দুই মাসে। যেখানে বছরের প্রথম ছয় মাসে IPO বাজার ছিল তুলনামূলকভাবে ধীর। জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে মাত্র ২৭টি IPO-তে ২২,৫৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। সেখানে জুলাই ও আগস্ট মাস থেকে ছবিটা বদলে যায়।
জুলাই মাসে ১২টি IPO থেকে ২৮,৬৪৮ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে, যা ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ তহবিল সংগ্রহ। আর আগস্টে IPO-র সংখ্যা আরও বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে এবং সংগ্রহ হয়েছে ২০,৯৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগস্ট ছিল চুক্তি সংখ্যার নিরিখে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত মাস। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বেড়েছে, দেশীয় তারল্য শক্তিশালী রয়েছে এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় IPO-র ভালো পারফরম্যান্স নতুন ইস্যুগুলিকে উৎসাহ দিয়েছে।
একই সঙ্গে, আগে বাজার পরিস্থিতির কারণে আটকে থাকা বহু কোম্পানি এখন IPO নিয়ে বাজারে আসছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি সেবি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের মধ্যেও দ্রুত IPO আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আর আগামী দিনগুলিতেও IPO বাজারে বড়সড় অ্যাক্টিভিটি দেখা যেতে পারে। প্রাইম ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭৫টি কোম্পানি সেবির অনুমোদনের অপেক্ষায়, যাদের সম্ভাব্য মোট ইস্যু মূল্য প্রায় ২.০২ লক্ষ কোটি টাকা।
এই তালিকায় রয়েছে জিও প্ল্যাটফর্ম (Jio Platforms)-এর প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা, NSE-এর ৩০,০০০ কোটি টাকা এবং রেজরপে (Razorpay)-এর প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য IPO। তবে এই গতি যে সবসময় একই থাকবে, তা নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী IPO-গুলির তালিকাভুক্তির পারফর্ম্যান্স, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং কোম্পানিগুলির ভ্যালুয়েশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেকটাই নির্ভর করবে। অর্থাৎ IPO বাজারে জোয়ার ফিরলেও, ভালো কোম্পানি ও যুক্তিসঙ্গত ভ্যালুয়েশন বেছে নেওয়াই এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় বিষয়।




