Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশীয় বাজারে হঠাৎই বড় পতন দেখা গেল মূল্যবান ধাতুতে। সপ্তাহের প্রথমদিনে অর্থাৎ আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) সোনার দাম প্রায় ১০০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আর রুপোর দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৮,২০০ টাকা কমে ২.৫ লক্ষ টাকার নীচে চলে এসেছে। দেশীয় ফিউচার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া MCX-এও এই চাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ হল মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার কমানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা।
তারা আরও জানান যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিচার্ভ (Federal Reserve)’ যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখে, তাহলে সোনা ও রুপোর মতো নন-ইন্টারেস্ট অ্যাসেটের চাহিদা সাময়িকভাবে কমে যায়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক উত্থানের পর অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেওয়ায় কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই পতনকে সংশোধন হিসেবেই দেখা উচিত।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ধাপে ধাপে কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুপোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহার থাকায় রুপোর দাম বেশি ওঠানামা করে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপো কিনতে হলে ঝুঁকি বোঝা জরুরি এবং একবারে বড় অঙ্ক না লাগিয়ে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করা উচিত।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মোট পোর্টফোলিওর প্রায় ১০%-১৫% সোনায় রাখা নিরাপদ বলে ধরা হয়। রুপোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ তুলনামূলক কম রাখা ভালো। এছাড়া গয়না কেনার বদলে গোল্ড ETF, ডিজিটাল গোল্ড বা সরকারি বন্ডের মতো আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করলে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বেশি থাকে।




