Article By – সুনন্দা সেন

চলতি বছর ভারতের IPO বাজারে আকর্ষণীয় গতি দেখা যাচ্ছে। শেয়ারবাজারের রেকর্ড উচ্চতা, শক্তিশালী দেশীয় লেক্যুইডিটি এবং ইতিবাচক অর্থনৈতিক পরিবেশ, সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ভারতের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী IPO বছর হয়ে উঠছে। এ বছর এখন পর্যন্ত মূলবোর্ড IPO- এর মাধ্যমে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সেরা। ইতিমধ্যেই ৯০টিরও বেশি কোম্পানি বাজারে এসেছে এবং ডিসেম্বর মাসে আরও বড় বড় ইস্যু লাইনে থাকায় বাজারে উত্তেজনা তুঙ্গে।
এই তহবিল সংগ্রহের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে, অনেকগুলি IPO অফার-ফর-সেল (OFS)-নির্ভর। অর্থাৎ কোম্পানির প্রসার বা বৃদ্ধির জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের বদলে অনেক প্রোমোটর ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করে লিকুইডিটি এক্সিট নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতের স্টার্টআপ ও প্রাইভেট ইকুইটি শিল্পের পরিণতি নির্দেশ করে, তবে একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ বছরের IPO বাজারটি বহুমুখী—টেক, অ্যানালিটিক্স,AI-ভিত্তিক পরিষেবা, ই-কমার্স, কনজিউমার প্ল্যাটফর্ম, উৎপাদন ও সেবাধর্মী বহু কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে।
ভারতের প্রথম AI-ফোকাসড IPO SEBI অনুমোদন পাওয়ায় নতুন প্রযুক্তিনির্ভর তালিকাভুক্তির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাহিদার পরও সব IPO শক্তিশালী তালিকাভুক্তি দিতে পারেনি। সাম্প্রতিক বেশ কিছু ইস্যুতে ম্লান লিস্টিং লাভ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতিমূল্যায়ন ও OFS-নির্ভর ইস্যুগুলো স্বল্পমেয়াদী রিটার্ন কমাতে পারে। শুধুমাত্র ডিসেম্বরে সম্ভাব্য ৩০,০০০–৪০,০০০ কোটি টাকা তোলা হবে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে IPO গতি অব্যাহত থাকবে। দেশীয় বাজারে রেকর্ড স্তর, বিদেশী প্রবাহ বাড়া এবং সামগ্রিক ইতিবাচকতা, সবই IPO বাজারকে এগিয়ে দিচ্ছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা খুচরা বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।




