buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
MCX

MCX বা Multi-Commodity Exchange কী? জানুন এই বিষয়ে বিশদে

ভারতীয় অর্থনীতিতে মূলধনী বাজার বা capital market-এর গুরুত্ব অনেকখানি। মূলধনী বাজার এত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারত না, যদি না NSE ও BSE-এর মতো এক্সচেঞ্জগুলি থাকত। তবে মুদ্রা প্রচলনের আগে, পণ্যের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনগুলি সম্পন্ন হত। সম্ভবত, যে কোনোরকমের বাণিজ্য প্রচলনের আগে পণ্যের বিনিময়ে লেনদেন শুরু হয়েছিল। বর্তমান যুগে, পণ্য ব্যবসাগুলির বেশিরভাগই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হয়, যা কমোডিটি ডেরিভেটিভ জাতীয় ব্যবসাগুলি সহজতর করেছে। ভারতের অধিকাংশ কমোডিটি এক্সচেঞ্জগুলি ২০১৭-১৮ সালে ৬০ লাখ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।

July 18 New in article ads By Sir

প্রতিদিন লক্ষাধিক ডিল কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হলেও, স্টক এক্সচেঞ্জের মতো এখনও এটি ততটা জনপ্রিয় নয়। MCX-এর পুরো কথা হল মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড। MCX ভারতের প্রথম কমোডিটি ডেরিভেটিভ এক্সচেঞ্জ, যা পণ্যের ডেরিভেটিভের অনলাইন ট্রেডিং-এর সুবিধে প্রদান করে। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে SEBI-এর আওতায় কার্যপরিচালনা করে MCX। অন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জ অর্থাৎ BSE ও NSE-এর মতোই MCX-ও একইভাবে পরিচালিত হয়। MCX-এর অধীনে ক্রুড, প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা রুপো, কৃষিজ পণ্য যেমন চাল, তুলো ইত্যাদির ডেভিডেটিভ চুক্তি সম্পন্ন হয়। MCX-এর সদর দপ্তর মুম্বইতে অবস্থিত। যেসব পণ্যের ফিউচার ডেলিভারির চুক্তিগুলি এই এক্সচেঞ্জে সম্পন্ন হয়। সেগুলি হল– 

  1. কৃষিজ পণ্য : চাল, গম, তুলো, সোয়াবিন তেল, ভুট্টা, মশলা, তন্তু, ভোজ্য তেল, ক্যাস্টর ইত্যাদি।
  1. শক্তি : ক্রুড অয়েল ও প্রাকৃতিক গ্যাস।
  1. ধাতু : অ্যালুমিনিয়াম, তামা, নিকেল, সোনা, প্ল্যাটিনাম, লিড, জিঙ্ক, স্টিল ইত্যাদি।
  1. মুদ্রা : দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রা র‌্যান্ড, ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা রিয়েল ও মেক্সিকোর পেসো।
  1. এছাড়া আরও প্রচুর পণ্যের ডেরিভেটিভ চুক্তিও সম্পন্ন হয় MCX-এ।

কয়েকটি বিষয় যেগুলি পণ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলে

  • চাহিদা ও জোগান : পণ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম একটি মূল বিষয়। চাহিদা ও জোগানের নিয়মটি পণ্যের বাজার অর্থাৎ কমোডিটি মার্কেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ঋতুভেদে, দেশীয় ও বৈদেশিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে চাহিদা ও জোগান পরিবর্তিত হয়।
  • ভূ-রাজনৈতিক কারণ : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে দামের পরিবর্তনের জন্য ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও এমন পরিস্থিতিও আসে যখন ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলি পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • খরচ ও প্রযুক্তি : এটি অন্য আরেকটি বিষয়, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। খরচের মধ্যে কাঁচামাল, মজুরি, লাইসেন্স, কর, R&D ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে উৎপাদনের প্রান্তিক খরচ কম হয়।
  • আবহাওয়ার প্রভাব : কমোডিটি এক্সচেঞ্জে যেসব পণ্য লেনদেন হয়, তার মধ্যে বেশিরভাগ হল কৃষিপণ্য। কৃষিজপণ্য উৎপাদনে আবহাওয়ার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে ফলে এটি পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলে।
  • অর্থনৈতিক প্রভাব : বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির ফলাফল কেমন হবে, তার উপর পণ্যের চাহিদা নির্ভর করেছে। অর্থনীতি যদি শক্তিশালী থাকে, পণ্যের চাহিদা বাড়বে, ফলে দামও বাড়বে।
  • সরকারি নীতি : সরকার প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে পণ্যের দামকে প্রভাবিত করতে পারে। কয়লার মতো বেশ কিছু পণ্যের উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ থাকে সরকারের কাছে। এছাড়াও বহু পণ্য যেমন গম, চাল ইত্যাদি সরকার মজুত রাখে। উৎপাদন পদ্ধতিতে বা মজুতকরণে কোনো পরিবর্তন ঘটলে, তা দামেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।

পণ্য ট্রেডিং-এর সুবিধা

  • ডাইভারসিফিকেশন : পণ্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ মাধ্যম, যার সাহায্যে আপনি আপনার পোর্টফোলিওকে ডাইভারসিফাই করতে পারেন। সাধারণত অন্যান্য ধরনের সম্পদ যেমন– ইক্যুইটি বা বন্ডের সঙ্গে পণ্যের কোনো পারস্পরিক সম্পর্ক নেই, বা থাকলেও খুব কম। যেহেতু MCX-এ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের উপস্থিতি থাকে, তাই এটি ডাইভারসিফিকেশনে সহায়তা করে, আপনি একইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পণ্যে বিনিয়োগের সুযোগ পারেন। পণ্যের মধ্যে চিনি, সোয়া, ভুট্টা থেকে শুরু করে সোনা, রুপো, স্টিল সবই MCX-এ লেনদেন হয়। উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হল, যখন অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনিশ্চিয়তা দেখা যায়, ইক্যুইটিগুলি সেইসময়ে অত্যধিক চাপে থাকে। কিন্তু সেইসময়ে সকলে সুরক্ষিত সম্পদে বিনিয়োগের দিয়ে ঝোঁকেন। ফলত সোনার দাম বৃদ্ধি পায়।
  • হেজিং : অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি লাঘব করতে পণ্যে বিনিয়োগ করেন। বেশিরভাগ শিল্পে চিনি, লোহা, ভুট্টা বা তামা ইনপুট উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দামের ওঠানামার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে বহু বিনিয়োগকারীরা কমোডিটি ফিউচার মার্কেটে বিপরীত পজিশন ধরে রাখেন। এছাড়াও পণ্যের মাধ্যমে অন্যান্য নির্দিষ্ট ঝুঁকিও কমে। যেমন, তেলের ঘাটতি দেখা দিলে ইক্যুইটি বাজারে মন্দা দেখা যায় কিন্তু ক্রুডের দাম বাড়ে।
  • লিক্যুইডিটি : অনেকে কমোডিটি ট্রেডিং-এর সঙ্গে পণ্যের বাস্তবিক লেনদেন এক করে ফেলেন। কিন্তু পণ্যের বাজারে যে লেনদেন হয়, তা সম্পূর্ণ আলাদা। পণ্যের ফিজিকাল ডেলিভারি অর্থাৎ বাস্তবিক প্রেরণ সম্ভব, তবে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীরা পণ্যের ফিউচারে ডিল করেন। অন্যান্য আর্থিক সম্পদ যেমন– স্টক, বন্ড ইত্যাদির মতো ডেরিভেটিভও অনেক সহজে লিক্যুইডেট করা যায়।
  • মুদ্রাস্ফীতি থেকে সুরক্ষা : কোনো দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন সময়ে, কমোডিটি আপনাকে সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে পারে। যেহেতু মুদ্রাস্ফীতির ফলে মুদ্রা বা কারেন্সির মান পড়ে যায়, ফলে এটি ইক্যুইটি বা বন্ডহোল্ডিং-এও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এর মাঝেও সোনা বা রুপোর মতো পণ্যের মান একই থাকে কারণ এগুলির স্বকীয় মূল্য অনেক বেশি।
10

কীভাবে কমোডিটি ট্রেডিং করবেন?

এই পর্যন্ত কমোডিটি ট্রেডিং-এর সুবিধে সম্বন্ধে কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেল। কিন্তু কীভাবে করবেন এই কমোডিটি ট্রেডিং? কমোডিটি এক্সচেঞ্জের  মাধ্যমে খুব সহজেই, চিন্তামুক্তভাবে আপনি কমোডিটিতে ট্রেড করতে পারেন, তাও আবার counterparty risk ছাড়াই। ভারতে প্রচুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ আছে, তবে এর মধ্যে MCX অর্থাৎ মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সবচেয়ে বড়। ভারতে MCX-এর মাধ্যমে কমোডিটি ফিউচারগুলির ট্রেডিং, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট করা হয়। MCX ফরওয়ার্ড মার্কেট কমিশন বা FMC দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে বর্তমানে যেহেতু FMC, সেবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই সরাসরি সেবির অধীনেই পরিচালিত হয় MCX। এটি একটি ইলেকট্রনিক এক্সচেঞ্জ, যা অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য চুক্তিগুলির ট্রেডিং পরিষেবা প্রদান করে। এছাড়াও MCX-এ ট্রেডিং-সংক্রান্ত যে পরিষেবাগুলি প্রদান করা হয়, সেগুলি হল–

  1. কমোডিটি ডেরিভেটিভ ট্রেডিং
  1. ফিউচার ট্রেডিং
  1. অপশন ট্রেডিং
  1. OTC ট্রেডিং বা over-the-counter ট্রেডিং 
  2. দেশীয় ও বিদেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ সহায়তা

MCX-এর মধ্যে বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে, যার সাহায্যে বাজারের ভিন্ন ভিন্ন কার্যকলাপগুলি করা সহজ হয়। বিভাগগুলি হল– ট্রেডিং ও সার্ভিলেন্স ইউনিট, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ইউনিট, ডেলিভারি ইউনিট এবং ওয়্যার হাউসিং ও লজিস্টিক বিভাগ। বুলিয়ান (মূল্যবান ধাতু), মূল ধাতু (base metal), শক্তি ও কৃষিপণ্য– এই চার ধরনের পণ্যের অন্তর্গত সকল পণ্যই MCX-এর মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। MCX-এর মাধ্যমে কমোডিটি ফিউচারে ট্রেডিং করা অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। 

MCX-এ কমোডিটি ট্রেডিং করতে প্রয়োজন হবে–

  1. ট্রেডারের নামের KYC তথ্য
  1. Demat A/c
  1. Commodity trading A/c, যাতে registered ব্রোকার থাকবে
  1. নগদের সেটেলমেন্ট, মার্জিন ফান্ডিং ইত্যাদির জন্য একটি সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট।

কীভাবে MCX ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলবেন?

আমরা জানলাম MCX কী। এইবার কমোডিটি ট্রেডিং করতে যে বিষয়টি প্রথমেই প্রয়োজন তা হল MCX অ্যাকাউন্ট। তাহলে এবার জানা যাক কীভাবে MCX অ্যাকাউন্ট খুলবেন।

  • ব্রোকার বাছুন : উপযুক্ত ব্রোকার বাছুন যা MCX দ্বারা রেজিস্টারড হবে। এইরকম প্রচুর ব্রোকার পাবেন এবং প্রত্যেকের নিজস্ব গুণাবলি রয়েছে। তবে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্রোকার বাছা খুব প্রয়োজন কারণ আপনার অ্যাকাউন্ট সামলাবে ব্রোকার এবং আপনার হয়ে ট্রেডও করবে ব্রোকার। সেকারণে অভিজ্ঞ এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক ব্রোকার বাছা প্রয়োজন।

সঠিক ব্রোকার আপনাকে যে সুবিধাগুলি দেবে :

  1. একটি ব্রোকার সঠিক পণ্য বাছতে সাহায্য করে। ফলে ট্রেডার ও ইনভেস্টাররা বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
  1. বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে ট্রেডারদের তথ্য প্রদান করে ব্রোকার এবং সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়। তারা আপনাকে সঠিক সময়ে buy / sell / hold-এর পরামর্শ দেয়।
  2. সঠিক ব্রোকার বাছলে, কম সময়ে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।
  1. ব্রোকারেজ এবং অন্যান্য খরচ দেখে নিন। কমিশন, ক্লিয়ারিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি ইত্যাদি, ব্রোকারেজ সংস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

আর্থিকভাবে পারদর্শী এবং নির্ভরযোগ্য কোনো ব্রোকিং সংস্থা বাছার সহজ উপায় হল সংস্থাগুলি যে ফ্রি ট্রায়াল দেয়, সেগুলি দেখা। বর্তমানে প্রায় সব সংস্থাই ফ্রি ট্রায়ালের ব্যবস্থা করে। এর সাহায্যে আপনি জানতে পারেন সংস্থাটি রিপোর্ট বিশ্লেষণ, চার্ট তৈরি, বাজারের প্রয়োজনীয় তথ্য যা কমোডিটি ট্রেডিং-এ প্রয়োজন, সেগুলি প্রদান করছে কিনা।

  • আবেদন ভরুন : সঠিক ব্রোকার নির্বাচনের পর অ্যাকাউন্ট খোলার পরবর্তী পদক্ষেপ হল অ্যাপ্লিকেশন ফিল করা। এর জন্য অফলাইনেও আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ফর্ম ডাউনলোড করে ভর্তি করে ব্রোকারের ঠিকানায় পাঠাতে হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি অনলাইনে ফর্ম ভরতে চান তাহলে ব্রোকারের ওয়েবসাইট থেকে ফর্মটি ফিল করতে পারেন। অনলাইন ফিলআপের ক্ষেত্রে আপনার ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং পরিচয়পত্রের নথিগুলি জমা করতে হবে।

যাবতীয় নথি যেমন প্যান, আধার, ব্যাংক পাসবুক, পাসপোর্ট ছবি ইত্যাদি প্রয়োজন।

  • যাচাইকরণ : ফর্ম ভর্তির পর, আপনাকে যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন পদ্ধতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা ব্রোকিং সংস্থাটিই সম্পূর্ণ করবে। আর এই ভেরিফিকেশনটি হবে in-person verification অর্থাৎ সরাসরি যাচাইকরণ। আপনার দ্বারা প্রদত্ত তথ্যগুলি নির্ভুল হলে ব্রোকিং সংস্থা সেটি যাচাই করে আপনাকে কনফারমেশন পাঠাবে মেল মারফত বা মোবাইলে।
  • মার্জিন অর্থ : এই সব কিছুর পর, MCX অ্যাকাউন্টে মার্জিন মানি জমা করতে হবে লেনদেন শুরু করার জন্য। মার্জিন মানি হল ব্রোকারদের জন্য একধরনের সিকিউরিটি মানি যাতে যদি কোনো বড় আর্থিক লোকসান হয়, তবে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

মার্জিন তিন ধরনের হয়–

  • ইনিশিয়াল বা প্রাথমিক মার্জিন : ইনিশিয়াল মার্জিন হল ন্যূনতম মার্জিন অর্থ বা লেনদেন শুরু করার জন্য MCX ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে।
  • M2M মার্জিন : একটি ট্রেডিং ডে-এর লাভ বা লোকসান একদিনেই মীমাংসা করা হয়, M2M বা মার্ক টু মার্কেট মার্জিনের মাধ্যমে। যদি লাভ হয় তাহলে আপনার MCX ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ক্লিয়ারিং হাউস টাকা পাঠাবে। অন্যদিকে, লোকসান হলে MCX অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ক্লিয়ারিং হাউসে ট্রান্সফার করা হবে।

বিশেষ মার্জিন বা স্পেশাল মার্জিন : ট্রেডাররা কমোডিটির চুক্তির ক্ষেত্রে বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পেশাল মার্জিন সংগ্রহ করে থাকে। সাধারণত চুক্তির মূল্যের ৫% থেকে ১০%-এর মধ্যেই থাকে এই মার্জিন।

ভারতে পণ্যে বিনিয়োগ

ভারতে পণ্যে বিনিয়োগের বিভিন্ন রকম বিকল্প সম্পর্কে জানা যাক।

Physical Commodity বা বাস্তব পণ্য : পণ্যের বাজারে বিনিয়োগের সহজতম উপায় হল ফিজিক্যালি কমোডিটি কেনা। ভবিষ্যতে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এই আশায় বর্তমানে কিনে, ভবিষ্যতে ভালো দামে পণ্য বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যবান ধাতু যেমন সোনা, রুপো অথবা অন্যান্য ধাতু ইত্যাদি হল সর্বোৎকৃষ্ট পণ্য এবং এগুলি ভারতে ফিজিক্যালি কিনে রাখা যায়।

কমোডিটি ফিউচার মার্কেট : ফিউচার চু্ক্তির মাধ্যমে ট্রেডাররা পূর্বনির্ধারিত সময়ে ও দামে পণ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের সুযোগ পান। পণ্যের দামের ক্রমাগত ওঠানামার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাঁরা মুনাফা পেতে চান, ফিউচার চুক্তি তাঁদের জন্য উপযুক্ত। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণও বিস্তর।

পণ্য স্টক : ফিউচার চুক্তির ঝুঁকি অনেকেই নিতে চান না। সেক্ষেত্রে সেইসব সংস্থার স্টকে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে সংস্থাগুলির সঙ্গে পণ্যের যোগাযোগ রয়েছে। এইপ্রকার স্টকে বিনিয়োগ করলে পণ্যের দামের গতিবিধি বুঝে মুনাফা লাভ সম্ভব।

ইক্যুইটি বনাম কমোডিটি মার্কেট 

ইক্যুইটি মার্কেট ও কমোডিটি মার্কেট নিয়ে তর্ক চলতেই থাকে। যদিও দুটি বাজারই সমান লাভজনক এবং বিগত কয়েক বছরে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে আপনি কোন পক্ষে থাকবেন, সেটি স্থির করার আগে এই বাজারগুলির পার্থক্য এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

ইক্যুইটি আসলে একটি কোম্পানির মালিকানাকে বোঝায়, অন্যদিকে, পণ্য বা কমোডিটি হল কাঁচামাল, যেগুলি লেনদেনের মাধ্যমে দামের পার্থক্য থেকে মুনাফা লাভ করা যায়।

ইক্যুইটি বাজার ও পণ্যের বাজারের পার্থক্য :

বিচার্য বিষয়ইক্যুইটি বাজারপণ্য বাজার
অর্থশেয়ার লেনদেন হয়, কোম্পানির মালিকানা বোঝায়তেল, গম, চাল, সোনা ইত্যাদি পণ্য লেনদেন হয়।
মালিকানা শেয়ারের মালিকানা যাঁর কাছে থাকে, তাঁকে শেয়ারহোল্ডার বলে।পণ্যের বাজারে যিনি পণ্যের মালিকানা পান, তাঁকে অপশনহোল্ডার বলে।
শ্রেণিবিভাগমূলধনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ইক্যুইটির শ্রেণিবিভাগ করা হয় – লার্জ ক্যাপ, মিড ক্যাপ, স্মল ক্যাপ ইত্যাদি।পণ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় – মূল্যবান ধাতু, সাধারণ ধাতু বা বেস মেটাল, এনার্জি বা শক্তি এবং কৃষিপণ্য
উদ্দেশ্যএখানে সেইসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়, যেগুলির কপার্স তৈরির সম্ভাবনা থাকে।চুক্তির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য স্থির রাখতে সহায়তা করে যাতে পণ্য উৎপাদনকারীরা দামে উঠানামাজনিত ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।
ঝুঁকিতুলনামূলকভাবে ঝুঁকি কম।ঝুঁকি বেশি
সময়সীমা দীর্ঘমেয়াদি, তবে কেবলমাত্র ১ দিনের জন্য বা বহু বছরও স্টক ধরে রাখা যায় কারণ এতে কোনো ম্যাচুরিটি তারিখ থাকে না।স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও চুক্তির একটি মেয়াদপূর্তির তারিখ থাকে।
মার্জিনঅধিকস্বল্প
লভ্যাংশশেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে পান।কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না।
ট্রেড এক্সচেঞ্জবম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেডিং হয়।MCX, NCDEX ইত্যাদিতে ট্রেডিং হয়।
নিয়ন্ত্রণনিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কম।ডেরিভেটিভ মার্কেটের ক্ষেত্রে সেবির কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকে।
ট্রেডিং-এর সময়সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়২৪ ঘণ্টাই খোলা।
পারফরমেন্সঅর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোম্পানির ফলাফলের উপর নির্ভর করে চলে।চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে চলে।

কোনটি বেশি ভালো ইক্যুইটি না কমোডিটি?
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইক্যুইটি বেশি ভালো না কমোডিটি– পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিভঙ্গির উপর। যদি ঝুঁকি বেশি নিতে চান, অবশ্যই কমোডিটিতে বিনিয়োগ করুন। তবে আপনি যদি তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে corpus তৈরি করতে চান তবে ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ আপনার জন্য উপযুক্ত। তাই নিজের আর্থিক লক্ষ্যগুলিকে নজরে রেখে সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ করুন।

সবশেষে এটাই বলা যায়, কমোডিটি ট্রেডিং-ও লাভজনক হতে পারে যদি সঠিক কৌশল বাছা হয় এবং MCX-এর মতো নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেডিং করা হয়। বর্তমানে MCX হল সবচেয়ে আধুনিক, উচ্চ প্রযুক্তিযুক্ত ভারতীয় এক্সচেঞ্জ যা গ্রাহক-বান্ধবও বটে। ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি প্রচুর অভিনব পণ্যের লেনদেন শুরু করেছে এবং ভারতীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণে সহায়তা করেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন চুক্তির সুবিধে পাওয়া যায় এই প্ল্যাটফর্মে। যেমন – সোনা, প্রাকৃতিক গ্যাস, ক্রুড, রুপো ইত্যাদির ফিউচার চুক্তি MCX-এ আপনি করতে পারবেন। এছাড়াও সোনা বা তেলের সোয়্যাপের সুবিধে পাওয়া যায়। আবার সোনা, রুপো, তুলো, গম, সোয়াবিন ইত্যাদির অপশন ট্রেডিং-ও করতে পারবেন MCX-এ।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading